বাগমারায় হামলার মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি, স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহীর বাগমারায় বিএনপি নেতা ও তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, মামলার সাত আসামি গ্রেপ্তার হলেও হামলার প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাগমারা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন শহিদুল ইসলামের স্বজনেরা।
লিখিত বক্তব্যে শহিদুলের বড় ভাই শামসুর রহমান জানান, গত ৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মধ্যঝিনা গ্রামে নিজেদের বেগুনখেতে কাজ করার সময় শহিদুলের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহিদুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন এবং তাঁর গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শামসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে বাগমারা থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় সাতজন গ্রেপ্তার হলেও আওয়ামী লীগ নেতা সোলায়মান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামসহ অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার হননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর ভাইকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুলের আরেক ভাই মঞ্জুর রহমান অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনার পর তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মামলার আসামি বোরহান আলী তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে শহিদুলসহ পরিবারের ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন। ওই মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে তিনি এর প্রতিবাদ জানান। হামলার ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইদুজ্জামান রতনের ইন্ধন ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া আসামিরা তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শহিদুলের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার, পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন আইনের আওতার বাইরে থাকতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেন স্বজনেরা।
সংবাদ সম্মেলনে আহত শহিদুলের ভাই মঞ্জুর রহমান, ভাতিজা বাবুল হোসাইন, ছেলে ফিরোজ আহমেদ ও ভাতিজা নূরে আলম সবুজসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।