জিএম কাদের, শামীম পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ নুরের দলের

সোনার দেশ ডেস্ক:
গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলার জন্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে থানায় আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা থানায় এ আবেদন করেন দলটির ছাত্র শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান সম্রাট মাঝি। তার দাবি তিনি নিজেও ওই হামলায় আহত হন।
রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক বলেন, “একটা আবেদন পেয়েছি। ঘটনাটি রমনা থানা এলাকার ভেতর কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গণঅধিকার পরিষদের ওই নেতার আবেদনে গত ২৯ অগাস্ট দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার জন্য জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়।
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা।
তখন গণ অধিকার পরিষদের তরফে দাবি করা হয়, তাদের মিছিলের পেছন থেকে হামলা করেছে জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির পাল্টা অভিযোগ, তাদের প্রধান কার্যালয়ে হামলা হয়েছে ওই মিছিল থেকে।
ওই রাতেই গণঅধিকারের মশাল মিছিল কর্মসূচি শেষে দলের কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহন হন নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার থানায় দেওয়া আবেদনে গণঅধিকারের আখতারুজ্জামান সম্রাট মাঝি অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের জোটের রাজনৈতিক কর্মকা- এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী শাসনামলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনে সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়।
ওই মিছিলে হামলার বর্ণনা দিয়ে আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মিছিলটি পল্টন মোড় থেকে বিজয় নগর পানির ট্যাংকি অতিক্রম করে জাতীয় পার্টির অফিস সংলগ্ন নাইটিংগেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জাপার চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ সাতজনের নেতৃত্বে দেড়শতাধিক জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। তারা রড, হকিস্টিক এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
‘হত্যার জন্য’ এ হামলা চালানোর অভিযোগ করে আবেদনে বলা হয়, এতে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ আরও ২০ থেকে ৩০ জন আহত হন।
তার অভিযোগ, হামলার কারণে তার হাতে বড় ধরনের আঘাত লাগে যেখানে ৫টি সেলাই পড়ে।
দুটি হাসপাতাল ঘুরে সবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাসায় ফেরেন বলে আবেদনে বলা হয়েছে।
তবে অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরের উপর হামলার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
এ বিষয়ে দলটির উচ্চতর পরিষদের সদস্য এসএম নূরে এরশাদ সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনা দুইটি। এ হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করার প্রস্তুতি নেওয়া সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। এখানে নুরুল হক নুর আহত হন।
“এ ব্যাপারে সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। কমিশন ৩০ দিনের সময় নিয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা কী করবো সে ব্যাপারে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
রমনা থানায় করা আবেদনে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আলমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি মশিউর রহমান জিসানসহ ১৫০ নেতার্কমীর বিরুদ্ধে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ