সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হলো না জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতার! বাড়িতে শোকের মাতম, জাবিতে শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাজা সম্পন্ন 

WP Import ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০৪ অপরাহ্ন
WP Import ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০৪ অপরাহ্ন
শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হলো না জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতার! বাড়িতে শোকের মাতম, জাবিতে শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাজা সম্পন্ন 
শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হলো না জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতার! বাড়িতে শোকের মাতম, জাবিতে শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাজা সম্পন্ন 

বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম

পাবনা প্রতিনিধি:


চলতি বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতার। পরিবারের আশা ছিল একমাত্র মেয়েকে জাকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো। কিন্তু তা আর হলো না। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই পরপারে পাড়ি জমালেন তিনি।

যে বাড়িতে বিয়ের ধুমধাম অনুষ্ঠান করার কথা ছিল, পাবনা শহরের জেলাপাড়া মহল্লায় তার সেই নিজ বাড়ি রাবেয়া ভিলায় এখন চলছে শোকের মাতম। জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতা পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক ইত্তেফাকের পাবনা প্রতিনিধি ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক রুমি খন্দকার এবং পাবনা কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার পলির একমাত্র সন্তান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে জন্ম জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতা ছোট থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৯ সালে পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১১ সালে পাবনা মহিলা কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ নিয়ে পাশ করার পর ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই অনার্স ও মাস্টার্স শেষে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন।

বাবা রুমি খন্দকার জানান, জাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব শেষে রাত ১২টার দিকে শিক্ষক কোয়ার্টারে তার বাসায় গিয়েছিল। পরে সকালে যখন তাকে নির্বাচনের ভোট গণনার কক্ষে ডাকা হয়েছিল, তখন সেখানে যায়। সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে তার সাথে শেষ মেসেজ ছিল হোয়াটসঅ্যাপে, বাবা আমি ভোট গণনা করতে যাচ্ছি। কিন্তু কক্ষে ঢোকার আগেই দরজার সামনেই সে পড়ে যায়। পরে তার মৃত্যু হয়। বৃহম্পতিবার ভোটগ্রহণের পর আমার সঙ্গে ওর কথা হয়। ও নির্বাচন নিয়ে বেশ খুশি ছিল।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৗসের (২৯) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুম্মার নামাজের পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণে শিক্ষিকার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার শেষে শিক্ষিকার মরদেহ নেওয়া হবে চারুকলা বিভাগের প্রাঙ্গণে। এরপর পাবনার সদর এলাকায় গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। এ সময় উপস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের সকলেরই চলে যেতে হবে। সততা স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার বিষয়গুলো প্রত্যেকটি ব্যক্তি মাথায় রেখে যদি চলতে পারি তাহলে আমাদের বিদায় টা অনেক সুন্দর হবে। সেটা অনেক স্বস্তির কারণ হবে। সকলেই তার জন্য দোয়া করবেন।

শিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, নির্বাচন কমিশন যেহেতু দায়িত্বে আছেন। দয়া করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলুন। আমার পরামর্শ হচ্ছে, আমাদের এখানে যারা কাজ করছে তাদের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেওয়া। আমরা যাতে স্বস্তির সঙ্গে কাজ করতে পারি।
জানাজায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও নিহতের পরিবারের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।