জাকসু ভোট: শিক্ষকের মৃত্যুতে ‘অব্যবস্থাপনার’ দায় দেখছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা

সিনেট ভবনের সামনে শুক্রবার ব্রিফিং করেন নবাব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার।
সোনার দেশ ডেস্ক:
ভোট গণনার সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ‘অব্যবস্থাপনাকে’ দায়ী করেছেন নবাব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সুলতানা আক্তার।
শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার সকালে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে এসে মৃত্যুবরণ করেন চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস।
সে প্রসঙ্গ ধরে সুলতানা আক্তার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থাপনার জন্যই আমার সহকর্মীর জান্নাতুল ফেরদৌসীর মৃত্যু হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এই মৃত্যুর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “এই গণনা প্রক্রিয়ার কারণে আজ সকালে আমাদের একজন সহকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি আমার সহকর্মীর মৃত্যুতে খুবই ব্যথিত, ক্ষুব্ধ।”
এই রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “আমি মনে করি, আমার সহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে, সেখানে আমিও থাকতে পারতাম। কারণ, অমানুষিক পরিশ্রম আমরা করেছি ১০ তারিখ থেকে।
“সুষ্ঠুভাবে ভোট কাস্ট করার জন্য আমরা শিক্ষকরা শতভাগ এফোর্ট দিয়েছি। কেউ যদি বলে এখানে ১ শতাংশ কারচুপি হয়েছে, সেটা না। আমি বলব, শতভাগ সুষ্ঠুভাবে আমরা ভোট নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “চেষ্টা করেছি, সেখানে যেন কোনো অনিয়ম না ঘটতে পারে। সাংবাদিকরা লাইভ করেছে, সেখানে পোলিং এজেন্টরাও ছিল, আপনারা তাদের কাছেও জানতে পারেন। ভোট সুষ্ঠু করার জন্য আমরা অমানুষিক পরিশ্রম করেছি।
“আমরা জানতাম এখানে ভোটটা মেশিনের মাধ্যমে গণনা করা হবে। নির্বাচনের আগে মতবিনিময় সভায় তাই বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল আমরা শুধু ভোট গ্রহণ করে সিনেট ভবনে দেব।”
সুলতানা আক্তার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিবকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম ভোট কোথায় গণনা হবে, তিনি বলেছিলেন সিনেট ভবনে। আমি বলেছিলাম, তাহলে দেরি হয়ে যাবে। কেন আমরা ২১টি হলে গুণতে পারব না। আমরা মেশিনের মাধ্যমে কাজ করব ম্যাডাম, যেন অতিদ্রুত রেজাল্ট দিতে পারি, যেন আপনাদের কষ্ট লাঘব হয়।
“আমরা সেটা মেনে নিয়েছি; আমরা সেটাই জানতাম। কিন্তু ১০ তারিখ রাতের পরে আমরা জানতে পারলাম, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা হবে। সেটা হলে যদি বিভিন্ন হলে হত, রাত ১০টার মধ্যেই ভোট গণনা শেষ হয়ে যেত। ১১টার মধ্যেই ফল দিয়ে দেওয়া সম্ভব হত। তাহলে আমার সহকর্মীর মৃত্যু দেখতে হতো না।”
তিনি বলেন, “তিনি সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম করে চাপ নিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। চাপের কারণে তিনি হয়তো ঘুমাতে পারেননি। সকালে অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি। গার্ড পাঠিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে।
“আসার পর তিনি তিনতলায় উঠতে গিয়ে পড়ে যান। কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয়; হাসপাতালে নেওয়ার আগেই। কাল যদি ভোট কাউন্ট করে, ফল দিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে হয়ত তার মৃত্যু হতো না। যে পদ্ধতিতে ভোট গণনা হয়েছে, গণনা হচ্ছে, তাতে করে তিন দিনেও ফল দেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা এ পদ্ধতির পরিবর্তন চাই।”
জাকসুর আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি হল সংসদের ভোট গণনা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো দুটি হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়নি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ