সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় রূপপুর প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসনের আরো দুই প্রকৌশলী বরখাস্ত

WP Import ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
WP Import ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


পাবনার ঈশ্বরদীতে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের কাজে অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরো দুই প্রকৌশলীকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং একজনকে ‘নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ’ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন ও আদেশ মারফত জানা গেছে, পাবনা গণপূর্ত উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. ফজলে হক এবং রাজশাহী গণপূর্ত জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম, পিএন্ডডি) মোসা. শাহনাজ আখতারকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি রাজশাহী গণপূর্ত সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) খোরশেদা ইয়াছরিবাকে ‘নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ’ করা হয়েছে।

আদেশে জনানো হয়, উল্লিখিত ৩ প্রকৌশলী কর্মরত থাকা অবস্থায় রূপপুর গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় এবং ভবনে উঠানোর কাজে অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়টি সে সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৯ মে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকল্পের কাজে অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। পরবর্তিতে বিভাগীয় তদন্তেও তাদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অস্বাভাবিক ব্যয়ের প্রাক্কলন প্রস্তুতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থেকে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ মোতাবেক মো. ফজলে হক ও মোসা. শাহনাজ আখতার ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪ এর উপবিধি ৩ এর (খ) অনুযায়ী তাঁদের ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আরেক উপসহকারী প্রকৌশলী খোরশেদা ইয়াছরিবা অস্বাভাবিক ব্যয়ের প্রাক্কলন প্রস্তুতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থেকে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাকে দোষী সাব্যস্ত করে একই বিধিমালার বিধি ৪ এর উপবিধি ৩ (ক) অনুযায়ী তাঁকে ‘নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ’ গুরুদণ্ড দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে গত ৬ সেপ্টেম্বর একই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারি প্রকৌশলী মো. শাহীন উদ্দীনকে বাধ্যতামূলক অবসর ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেনকে ‘নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ’ করা হয়।