চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার নদী ভাঙনে ভিটে-মাটি ও ফসলি জমি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মার তীব্র ভাঙনে অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নে একের পর এক বসতভিটা, আবাদি জমি, সরকারি স্থাপনা ও গ্রামীণ সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তাদের জীবনকে ঠেলে দিচ্ছে চরম অনিশ্চয়তার দিকে।
সম্প্রতি সদর উপজেলার নারায়ণপুর থেকে শিবগঞ্জের মনোহরপুর পর্যন্ত তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার দেবিনগর, শাজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা ও আলাতুলি ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় নদী গিলে খাচ্ছে ঘরবাড়ি ও জমি। এতে সদর ও শিবগঞ্জের অন্তত ৫০০ পরিবার ভাঙনের মুখে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
নারায়নপুরের স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন,ছোট থেকেই পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলা দেখছি। নদী আগের থেকে অনেকটা এগিয়ে এসে এবার বাড়ির দরজায় পৌঁছে গেছে। ভাঙনের প্রকোপো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনও সরাতে হয়েছে।মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ জানান,জীবনে পাঁচবার বাড়ি ভেঙেছি। আমার বাবা-দাদারাও একইভাবে ভিটেমাটি হারিয়েছেন। এ বয়সেও আবারও ঘর সরাতে হচ্ছে।
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন চলতি বন্যায় পানি কমার সাথে সাথে তীব্র শ্রতের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নারায়নপুর ইউনিয়ন এর অধিকাংশ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। তাদের জমি বাড়িঘর ফসলি জমি বিলিন হওয়ায় সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর বাতাসমোড়, পাঁকার ঘাট, মনোহরপুর, ঝাইলপাড়া, মল্লিকপাড়া ও পোলাডাঙ্গা বিওপিসহ প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা এখন ভাঙনের হুমকিতে। জরুরি ভিত্তিতে পোলাডাঙ্গা ও মনোহরপুর এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন,সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর তীর রক্ষায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চরাঞ্চলের মানুষ বলছেন, পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো শক্তিশালী ও টেকসই বাঁধ। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি মিললেও কবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে-এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।