নারীঘটিত দ্বন্দ্বে খুন, নাটোরে চিকিৎসক হত্যায় ব্যক্তিগত সহকারি গ্রেফতার

নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরে চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার ব্যক্তিগত সহকারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাসমিন সুলতানা সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া আটটার দিকে সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে হত্যাকা-ের শিকার চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সহকারিকে।
গ্রেফতার ব্যক্তিগত সহকারির নাম আসাদুল ইসলাম আসাদ (২৪)। আসাদ বগুড়ার ধুনট উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস আকোন্দের ছেলে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে তাকে নাটোর শহরের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জনসেবা হাসপাতাল চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন নাটোর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন। তিনি জানান, নারীঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আমিনুল ইসলাম ও তার ব্যক্তিগত সহকারি আসাদুল ইসলাম আসাদের দ্বন্দের জেরে এ হত্যা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২৫ আগস্ট আসাদকে মারধর করে চাকরিচ্যুত করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর রাগ এবং প্রতিশোধ হিসেবে ১৩শো টাকার একটি রোরকা ও দুটি চাকু কেনে আসাদ। রোববার রাতে বোরকা পরে হাসপাতালে প্রবেশ করে আসাদ। সে আমিনুল ইসলামের রুমের বেডের নিচে লুকিয়ে থাকে। রাত তিনটার দিকে আমিনুল তার কাজ শেষ করে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমায় সেই সুযোগে তাকে হত্যা হরা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, আসাদ টিএমএসএস থেকে পড়ালেখা শেষ করে ডা. আমিনুল ইসলামের পিএ হিসেবে চাকরিতে যোগদান করে। সে কারণে রুমের সবকিছু তার জানা ছিল।
এবিষয়ে মামলার তদন্ত অফিসার এসআই জামাল জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি পুলিশের ক্রাইমসিন টিম আলামত সংগ্রহ করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অন্য সহকর্মীদের বয়ান পর্যালোচনা করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, রোববার রাত ৩টা থেকে ভোরের মধ্যে হাসপাতালের ওই কক্ষে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। ওই দিন রাতে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন ডা. আমিরুল। পরদিন সকালে ডাকাডাকি করেও তার সাড়া না পেয়ে দুপুরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আততায়ী হত্যা নিশ্চিত করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অটোলক দরজা বন্ধ করে দেয়।
মঙ্গলবার বাদ আসর শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, আত্মীয়-স্বজন এ জানাজায় অংশ নেয়। পরে তাকে শহরের গাড়ীখানা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহত আমিনুল ইসলাম জেলা জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি এবং সিংড়া উপজেলার বাশবাড়িয়া গ্রামের হাসান মাস্টারের ছেলে। এছাড়াও তিনি নাটোরের সাবেক সিভিল সার্জন, ড্যাবের রাজশাহী অঞ্চলের নেতা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ও অনার্স মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নাটোর জেলা শাখার সভাপতি এবং জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন।