রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

চবি ক্যাম্পাস থমথমে, সব পরীক্ষা স্থগিত

WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১২:০৯ অপরাহ্ন জাতীয়
WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১২:০৯ অপরাহ্ন
চবি ক্যাম্পাস থমথমে, সব পরীক্ষা স্থগিত
চবি ক্যাম্পাস থমথমে, সব পরীক্ষা স্থগিত

প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ সোনার দেশ ডেস্ক

সোনার দেশ ডেস্ক :


স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
সংঘর্ষের জেরে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি।
এদিকে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী রাত ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। ভবনের গেইট বন্ধ থাকায় তিনি প্রহরীকে ডাকাডাকি করেন। এসময় প্রহরী এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তিনি গালাগাল করেন এবং চড় মারেন।

ওই ছাত্রী তখন সহপাঠীদের খবর দিলে তারা সেখানে যান এবং গ্রামবাসীও ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করে।

এসময় স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মো. হায়দার আরিফ ফেইসবুকে পোস্টে দিয়ে সবার সহযোগিতা চান।
তিনি লেখেন, “দুই নম্বরে (গেইটে) আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে প্রচুর শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সহকারী প্রক্টর কুরবান আলী স্যার, নাজমুল স্যার ও নিরাপত্তা প্রধান রহিম ভাই আহত। নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেই আহত। প্রক্টোরিয়াল বডি, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভায়চুর করা হয়েছে।”
রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হন বলে উপ উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন জানান।
রাতে তিনি টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাতে একটি আবাসিক ভবনের দারোয়ান আমাদের এক ছাত্রীর গায়ে হাত তোলে। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে গ্রামবাসী তাদের ওপর আক্রমণ করে, এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়।”

উপ উপাচার্য বলেন, “পর্যাপ্ত পুলিশ আমরা ঘটনাস্থলে পাইনি। র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের পাইনি। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী আসছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ