নাটোরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন, শিশুর জন্মের পর মায়ের দুধ খাওয়ালে মৃত্যুঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমে

নাটোর প্রতিনিধি:
বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনার মধ্যে দিয়ে নাটোরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করেছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়‘মাতৃদুগ্ধকে অগ্রাধিকার দিন, টেকসই সহায়ক ব্যবস্থা করে গড়ে তুলুন।
এই বিষয়টিকে সামনে রেখে সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রদক্ষিন করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সিভিল সার্জন এর সম্মেলন কক্ষে হয় আলোচনা সভা।
পরে সেখানে নাটোরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোক্তাদির আরেফিন এর সভাপতিত্বে মাতৃদুগ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমনা সরকার। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা আক্তার নেলী, উপসহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন সরকারসহ কর্মকর্তাবৃন্দ।
এতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুর জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই যদি তাকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়, তবে মৃত্যুঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমে যায়। আর ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ (এক ফোঁটা পানিও নয়) খাওয়ানো হলে শিশুমৃত্যুর হার আরও ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে ‘শালদুধ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পুষ্টিকরই নয়, বরং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রথম টিকার মতো কাজ করে। এই সময়টিতে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে মায়ের দুধ অপরিহার্য।
এছারাও কৌটায় সংরক্ষিত দুধ বা গুঁড়ো দুধ শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে ডায়রিয়ার ঝুঁকি ১০ গুণ, নিউমোনিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৫ গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, শৈশবকালীন ক্যানসার, পরবর্তী জীবনে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও বাড়ে।
শুধু শিশুই নয়, মায়ের জন্যও বুকের দুধ খাওয়ানো স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা কমে, মায়ের শরীর দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং মানসিক প্রশান্তি তৈরি হয়।