জেলার কথ্য ভাষার ভবিষ্যৎ
‘মাগে আইজ স্কুলে যাব না’ শুনে মা আঁৎকে ওঠে ছেলেকে তীব্র তিরস্কারে বলে ওঠে ‘তুমি এভাবে কথা বলছ কেন, তোমাকে না শুদ্ধ কথা বলতে বলেছি, এখন থেকে আর এভাবে কথা বলবে না’ (সূত্র: নকশিকাঁথা, ফেব্রুয়ারি ২০২৫, পৃ.৪২)। এই দৃষ্টিভঙ্গি জেলার অজ পাড়াগাঁয়ে সাধারণ লোকজনের মাঝে বিরাজমান। কেননা মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাও পুরোপুরি বাজারমুখী যা শহর বন্দর গ্রাম গঞ্জ সর্বত্রই দৃশ্যমান। ফলে পিতামাতা-অভিভাবকদের তীব্র আকাক্ষাা যে করেই হোক সন্তানকে ‘এ’ অথবা ‘গোল্ডেন এ’ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। শিক্ষা একটা পণ্য, বাজার উপযোগী করে সন্তানকে গড়ে তুলতে হবে।
একটু পেছনে দৃষ্টি ফেরালে দেখা যায়, বিগত কয়েক দশক আগে আমাদের গ্রামের এক পরিবার ঢাকায় বসবাস শুরু করে। মাঝেমধ্যে গ্রামে যেতেও তাদের ছেলেমেয়েদের মন্তব্য ছিল ‘গ্রামে বড্ড ধুলো’। এ গ্রামেরই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে বসবাসরত আর একজন আমাকে জানিয়েছে- ২৫-৩০ বছরের মধ্যে একদিনেও গ্রামে (দূরত্ব ১০ কি.মি.) যাওয়া হয়নি। সাধারণ পরিবারের লোকজনদের একটু আর্থিক সামর্থ হলেই ভাল লেখাপড়ার অন্বেষণে এখন শহরমুখী।
গ্রামের লোকজনদের জীবনযাত্রায় কথাবার্তায় অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে এবং অনেক পরিবর্তন লক্ষণীয়। আমরা বাল্যকাল ও কৈশরে ‘দাদো-দাদী’ বলতে অভ্যস্থ ছিলাম। এখন আমি সেই একই গ্রামের রাস্তায় চলাচলের সময় কলকাকলিতে মুখরিত ছোট্টমণিদের মুখ থেকে ‘দাদু’ ডাক শুনি। পোতা-পুতিন, লাতি-লাতিন এখন খুব কম শোনা যায়। এ সব সম্বোধন এক কথায় হয়ে গেল ‘নাতী’। অবশ্য জেলার ষাটোর্দ্ধদের মধ্যে পরিবর্তনের ছোঁয়া কম। পরের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা শিক্ষানুরাগি এবং বহু সংখ্যক তরুণ ও খেটেখাওয়া লোকজন জীবন জীবিকার সন্ধানে ব্যাপকভাবে দেশের অনেক শহর-নগরে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথাবার্তা ও ভাব বিনিময় করতে হয়। ফলে তাদের মধ্যে মিশ্র ও অন্য জেলার আঞ্চলিক কথাবার্তার সংমিশ্রণ লক্ষ করা যায়। দেশের প্রধান কর্মসংস্থানের উৎস হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলো। এ সব স্থানে বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক কথাবার্তার প্রাধান্য রয়েছে এবং নিজ জেলার কথ্য ভাষায় কথা বলতে দ্বিধা করে না। জেলার শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিক দল বেঁধে অন্য জেলায় কর্মরত।
এ সব স্থানে চলতে ফিরতে কাজের বা অবসরের ফাঁকে জেলার কথাবার্তা শোনা যায়। তবে অন্য জেলার লোকজনদের মধ্যে সময়ে সময়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া, টিটকারি বা বুলিং-এর শিকার হতে হয়। ঢাকায় গণ গণপরিবহন বাসে চলাচলের সময় এক ঘটনার উল্লেখ করছি। বাসভর্তি যাত্রী, তবে উপচেপড়া ভীড় ছিল না। তবুও কিছু ছাত্র ভেতরে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি রেখে হাসি ঠাট্টায় মশগুল। এক যাত্রী কোন এক স্টপেজে নামার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি এখানে নামব, দয়া করে একটু নামার জায়গা দিন।’
যাত্রীকে নেমে যাবার জন্য সুযোগ করে দিয়ে তাদের মধ্যে একজন বলে ‘এই রে নর্থ বেঙ্গল’ এবং নতুৃন করে হাসি-মস্করার উপকরণ পেয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা/উদাহরণের শেষ নেই। ঢাকার কথা বিবেচনা করলে দেখা যায়, সেখানে দেশের প্রতিটি জেলার লোকজনের আনাগোনা ও বসবাস। তারমধ্যে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালি, চট্টগ্রামের লোকজন এবং এরা নিজ নিজ জেলার কথ্য ভাষায় কথাবার্তা বলতে একটুও জড়তা বোধ করেন না। করবে কেন? তারা সে অঞ্চলের লোকজন। অন্য জেলার লোকজনও তাদের মত করে কথা বলতে অনেক সময় বাধ্য হয়।
তাছাড়া সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মিডিয়ার গণ জোয়ারে অর্থাৎ রেডিও, টিভি চ্যানেলগুলো ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হরদম গান, নাটক, কথিকা, এমন কী বক্তৃতা-বিবৃতিতে স্থানীয় ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করার বিষয় হলো নোয়াখালি জেলার কথ্য ভাষা অন্য কিছু জেলায় প্রভাব বিস্তার করেছে, যেমন বাস্তুচ্যুত ও সিকিস্তি অনেক লোকজন অন্য জেলার বিভিন্ন চর ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পার্বত্য জেলাগুলোতে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং নতুন বসতি গড়ে উঠেছে। ফলে এসব জেলার আদি লোকজন সংখ্যাগরিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও নোয়াখালির কথ্য ভাষা রপ্ত করে নিয়েছে এবং সাচ্ছন্দে কথা বলতে দেখা যায়।
ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর লোকজনদের কথাবার্তায় অভিন্নতা রয়েছে। ফলে, এ অঞ্চলের কথ্য ভাষা অন্য জেলার পরিযায়ী শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত লোকজনদের মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। পিছিয়ে পড়া উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে জীবন জীবিকার উদ্দেশ্যে আগত বিপুল জনগোষ্ঠী এখানকার কথাবার্তায় প্রভাবিত হয়ে গোঁজামেলে কথপোকথন লক্ষ করা যায়। এই প্রভাব আমাদের জেলাতেও পড়েছে।
উত্তরবঙ্গের এক ছোট্ট জেলা চাঁপাই নবাবগঞ্জ, বহুকাল জুড়ে প্রাচীন গৌড়ের অংশ ছিল এবং বর্তমানেও গৌড়ের শিক্ষা-সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এ জেলার ভাষাকে গৌড়ীয় উপভাষা হিসেবে পণ্ডিতেরা মত ব্যক্ত করেছেন। এ জেলার সাথে ভারতের মালদা (এক অংশ) ও মুর্শিদাবাদের (এক অংশ), রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা অর্থাৎ পদ্মার উভয় তীরের লোকজন প্রায় একই ভাষায় এখনও কথা বলেন। তবে বিগত তিন দশকে গৌড়ীয় এই উপভাষার সঙ্গে দেশের অন্য অঞ্চলের কথাবার্তার সংমিশ্রণ ঘটেছে। ভাষাতো ভাঙ্গাগড়ার মধ্য দিয়ে বহমান বা চলতে থাকে এবং রূপান্তর ঘটা স্বাভাবিক। এ রকম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলার ভাষার কী হবে? কেননা ঐতিহ্য রক্ষার ব্যাপারে আমরা যেমন উদাসীন তেমনি দেশের কর্ণধাররাও একই রকম। নেই গৌড় নিয়ে কোন গবেষণা বা গ্রন্থনা।
সাম্প্রতিক কালে জেলার শিক্ষিত লোকজনদের পাশাপাশি অশিক্ষিত সাধারণ লোকজন ও ছাত্রছাত্রী শুদ্ধ (প্রমিত) ভাষায় কথা বলতে প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও জেলার বাচনভঙ্গির মধ্যে এক ধরনের টান প্রায় সবার মধ্যে বিদ্যমান। অল্প সংখ্যক ব্যক্তি পরিহার করে উচ্চারণ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু প্রধান সমস্যা হচ্ছে ‘শ’ এবং ‘স’ উচ্চারণে চরমভাবে ব্যর্থ, বিপত্তি এখানেই। ‘শ’ এবং ‘স’ শব্দ দ্বয়ের উচ্চারণ (ধ্বনিতত্ব) প্রাথমিক অবস্থায় হাতে খড়ি অর্থাৎ অ, আ, ক, খ (স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ) শেখার শুরুতেই বর্ণের উচ্চারণ ঠিকমত না শিখতে পারলে এ গলদ আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় বা হচ্ছে।
পরিণত বয়স বা কর্মজগতে প্রবেশের সময় অন্যদের সাথে মিথষ্ক্রিয়ার সময় দুর্বলতা স্পষ্ট দেখা দেয় এবং কিছু সংখ্যক শিক্ষিত ব্যক্তি নিজ প্রচেষ্টায় সংশোধন করে নিতে পেরেছে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রারম্ভেই শুরু হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু মুশকিল এবং ঢালাওভাবে সত্যি হলো জেলার শিক্ষকরাই অক্ষরদ্বয়ের উচ্চারণগত পার্থক্য জানেন না। ফলশ্রুতিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও জেলার শিক্ষার্থীদের উক্ত সমস্যার অবসান হচ্ছে না।
স্বাধীনতার পর জেলার কথ্য ভাষায় সমৃদ্ধ ‘গম্ভীরা’ গান জোয়ার সৃষ্টি এবং দেশজুড়ে লোকজনের মাঝে জনপ্রিয়তা লাভের পাশাপাশি জেলার ভাষাশৈলীর সাথে পরিচিতি লাভ করে এবং মনেও গেঁথে যায়। এ জন্য রকিব-কুতুবের অবদান অতুলনীয়। সাম্প্রতিককালে গম্ভীরার চর্চা বেশি পরিমাণে হলেও সেই জৌলুশ, আবেগ, গানের সাথে কথপোকথনের গভীরতা, মঞ্চে পরিবেশনায় মুনশীয়ানা এবং হাসি মস্করা ইত্যাদির সমন্বয় সেভাবে আকর্ষণ করতে ব্যর্থ। জেলার কথ্য ভাষার আঞ্চলিক গান এবং রসকষে পূর্ণ হাসি-ঠাট্টা, মস্করা একই সাথে প্রান্তিক লোকজনের জীবনগাঁথার সার্থক প্রতিফলন পাওয়া যেত ‘আলকাপ’ গানে। কিন্তু সেই আলকাপ গানের অপমৃত্যুর সাথে স্থানীয় ভাষা প্রসার না হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে।
কেননা বিগত তিন দশকের মধ্যে বহুল প্রচলিত শব্দ ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। একই ভাবে মেয়েলি গীতকেও বিবেচনা করা উচিৎ। আঞ্চলিক কথ্য ভাষায় সমৃদ্ধ এই গীত যা ছেলেমেয়ে, কৃষক-কিষাণী বা সব বয়সী লোকের কাছে সমান জনপ্রিয়। কিন্তু গীত মৌলবাদের ছোঁবলে বিদায় নিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বিনোদনের মাধ্যম যথাÑ জারি, সারি, পুঁথি, সত্যপীরের গান আঞ্চলিক ভাষায় সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। এ সব হারিয়ে যাওয়ার আলামত জেলার কথ্য ভাষার ক্ষেত্রে অশনি সংকেত বলাটা বোধহয় অমূলক হবে না।
সন্দেহ নেই, উল্লিখিত বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক উপাদান স্থানীয় কথ্য ভাষা প্রসারে ও সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা পালন করত বা করেছে যার প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যেত আপামর জনগণের ওপর। সেই খেটেখাওয়া লোকদের মুখে এখন পোশাকি ভাষার সংমিশ্রণ দেখা যায়। অবশ্য চাপিয়ে দেয়া বিশ্বায়ন ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দৌরাত্ম্যে গ্রামীণ অর্থনীতি বিপর্যস্ত এবং আকাশ সংস্কৃতির একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তারে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে জর্জরিত। কেননা বিশ্বায়ন সম্পূর্ণ ব্যক্তি কেন্দ্রীক স¦ার্থকে প্রাধান্য দেয়। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনে আবহমানকাল থেকে বহমান লোকজ সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিনোদনের মাধ্যম হারিয়ে গেল।
প্রবন্ধটি শুরু করা হয় এ জেলার আঞ্চলিক কথাবার্তাকে কেন্দ্র করে এবং একটি অশনি সংকেতের আভাসও দেয়া হয়েছে। তবে, ভাষা পরিবর্তনশীল এবং বিবর্তনও ঘটে। আবার অনেক ভাষার মৃত্যুও ঘটে। এভাবে পৃথিবী থেকে অনেক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা হারিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। ভবিষ্যতে জেলার ভাষা নিয়ে এমন কিছু ঘটুক আমরা চাই না। তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো বহু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখানকার কথ্য ভাষা নির্ভর কোন গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, নাটক ইত্যাদি গ্রন্থনায় দেখা যায় না।
অতীতে বিভিন্ন লোকজ গান, যাত্রাপালা সম্পূর্ণ কথ্য ভাষায় গীত হলেও সে সব বিশাল ভাণ্ডারের সংকলন বলতে গেলে নেই। প্রসঙ্গক্রমে হয়ত প্রখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমানের ‘জননী’ উপন্যাসটির কথা বলা যায়। এটি ফরাসি ভাষায় অনুদিত ও প্রকাশনার সময় জননীর পরিবর্তে ‘মাদার’ (Mother) শিরোনামে প্রকাশ করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শওকত ওসমান রাজি হননি, বাংলা শব্দ জননী-কে প্রাধান্য দেন। প্রসঙ্গটি উল্লেখ করার পেছনে কারণ হলোÑ লিখিয়েরা সচেতনভাবেই জেলার কথাশৈলী এড়িয়ে গেছেন বা চলেছেন। কৌতুকছলেও কিছু লেখার প্রয়োজন বোধ করেন নি। ফলে কোন প্রকাশনা বা গ্রন্থনায় জেলার ভাষা যেমন অনুপস্থিত একইভাবে গণমাধ্যমেও স্থান লাভ করেনি।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন প্রকাশ করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় এবং ১৯৫৮ সালে কাজ শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, সাময়িক পত্রিকা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদনপত্র প্রেরণের মাধ্যমে শব্দ সংগ্রহ করা হয়। রাজশাহীসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে ৪৫৩ জন সংগ্রাহকের মাধ্যমে মোট ১,৬৬,২৪৬টি আঞ্চলিক শব্দ সংগ্রহের পর সংশোধন ও বিচার-বিবেচনায় প্রায় পঁচাত্তর হাজার শব্দ সংকলনের জন্য গৃহীত হয়। ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় দেশে প্রথম একটি আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন প্রকাশ করে এবং ১৯৯৩ সালে ১,০৫৮ পৃষ্ঠার এর প্রথম পুনর্মুূদ্রণ প্রকাশিত হয়।
অপর দু’খণ্ড আর প্রকাশিত হয়নি (সূত্র: বাংলাপিডিয়া, এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ)। তবে যে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে সেখানে তৎকালীন চাঁপাই নবাবগঞ্জ মহকুমা ও পরবর্তী সময়ে জেলা হিসেবে ভুক্তি মুদ্রিত হয়েছে কিনা জানা নেই, তবে না থাকার সম্ভাবনা বেশি। এই সূত্র ধরে নিম্নের প্রস্তাবটি জেলার জন্য মাইলফলক হিসেবে এক ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করতে পারে। প্রস্তাবটি হলো- চাঁপাই নবাবগঞ্জের কথ্য ভাষা সংগ্রহ করে সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ। এভাবে জেলার ভাষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনে গবেষণা, উৎকর্ষ সাধনসহ বিবিধ প্রয়োজনে ব্যবহারের উপকরণ হিসেবে সংরক্ষণ করা আবশ্যক। এটি সম্মিলিত উদ্যেগে করা সম্ভব। বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য জেলাবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি।
লেখক: গবেষক