সরকারি দাফতরিক যোগাযোগ, নথিপত্রে সম্মানসূচক শব্দ
সরকারের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়
সরকারি দাফতরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিভিন্ন মহলে প্রশংসিতও হচ্ছে। সরকারি দাফতরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে ওই দুটি সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হলেও মৌখিক উচ্চরণে ওই শব্দ দু’টি ব্যবহারযোগ্য হবে কি না- তা ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় নি। তবে প্রধানমন্ত্রী পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তার পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বা সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ‘মাননীয়’ বা ‘মহামান্য’ সম্বোধন করা বা না করার বিষয়টি একেক দেশে একেক রকম এবং এটি মূলত দেশগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রশাসনিক প্রথা ও সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে এ প্রথা বিট্রিশ আমল থেকেই মূলত সরকারি অফিস আদালতে শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশরা এ দেশ ছেড়ে চলে গেলেও তাদের চালু করা এ প্রথা চলে আসছিল। যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক কমনওয়েলথ বা সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও সরকারপ্রধানদের দাফতরিক ও আনুষ্ঠানিক সম্বোধনে ‘ঞযব ঐড়হড়ঁৎধনষব’ বা সম্মাননীয় লেখার বা ডাকার প্রচলন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতিকে সাধারণত সরাসরি ‘গৎ. চৎবংরফবহঃ’ বা কেবল ‘চৎবংরফবহঃ বলে সম্বোধন করা হয়, যা তুলনামূলকভাবে পদভিত্তিক ও কার্যনির্বাহী। তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক নথিপত্রে ‘ঐড়হড়ৎধনষব’ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পদাধিকারীদের অতিরিক্ত আভিজাত্যমূলক বা রাজকীয় উপাধির পরিবর্তে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পদবি যেমন—প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী দিয়ে সম্বোধনের প্রবণতা বাড়ছে, যা জবাবদিহিতা ও সাম্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন- সার্বভৌম দেশ হিসেবে ‘জনগণ’ শব্দটি অধিক আভিজাত্যপূর্ণ হওয়ায় সমীচীন। কেননা এই দেশটিকে গণমানুষের করতে প্রচুর মূল্য দিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীদের সম্বোধনে সাম্য বজায় রাখা অধিক যুক্তপূর্ণ। বিদেশে যোগাযোগের ক্ষেত্র ছাড়া বাংলাদেশে উচ্চারণের ক্ষেত্রেও প্রাতিষ্ঠানিক পদবি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।