সার বিতরণে বিশৃঙ্খলা
সময় থাকতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে
দেশে সার নিয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে। এখন আমন মৌসুম চলছে। কৃষকের সার দরকার। সে সার সহজলভ্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে। কিন্তু সারের বাজার তেমনটি নয়- সেখানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সার নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কৃষক চাইলেই সার পাচ্ছেন না। ফলে ভয়-আতঙ্ক ও অস্থিরতা পেয়ে বসেছে। কয়েক স্থানে সার লুটের মত ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি উপেক্ষা না করে এখনই সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান হওয়া চায়।
কৃষিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, গত বছর একই সময়ে সরকারিভাবে সারের মজুত ছিল ১২ লক্ষ মেট্রিক টন, যা বর্তমানে ১৩ লক্ষ মেট্রিক টনের কাছাকাছি। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, চলতি বছরে বাংলাদেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিইপি এবং অ্যামোনিয়া সারের মোট চাহিদা ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া প্রায় ১৬ লক্ষ মেট্রিক টন সার নিরাপত্তা মজুত হিসেবে রাখা হয়েছে। যা সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যবহার হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরব, মরক্কো, কানাডা এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সার আমদানি চুক্তি রয়েছে। এছাড়া তিউনিশিয়া, চিন এবং মিশরের সঙ্গেও চুক্তি হচ্ছে।
প্রতিমাসে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেয়ার কথা তা মজুত সরকারের কাছে আছে। এমনকি তিন থেকে চার মাসের আগাম মজুদ রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
তাহলে, মাঠ পর্যায়ে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না কেন? আর কেনই বা সড়ক আটকে বিক্ষোভ কিংবা ডিলার গোডাউনে লুটপাটের ঘটনা ঘটছে?
সরকার কলছে- দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। খুব স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে- তাহলে কৃষক সার পাচ্ছে না কেন? এই কেন-এর উত্তর সরকারকেই দিতে হবে। সারের ঘাটতি নেই- এটা মেনে নিলেও সার সরবরাহ বা বিতরণ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ত্রুটি আছে, এটা বলাই যায়। সার নিয়ে একটি সিন্ডিকেট বাজার অস্থির করছে এটাও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সারের বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন যে অভিযান পরিচালনা করছে- সেখানে সার ডিলারদের জরিমানা ও কারাদণ্ডের মত পদক্ষেপও নিচ্ছে।
এটা এই প্রমাণ করে যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে। আবার সারের ঘাটতি না থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। সারের জন্য কেনই বা দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? অন্যভাবে বাড়তি মূল্য দিলেই সার পেতে সমস্যা হচ্ছে না। সরকারের বক্তব্য সঠিক হলে অবশ্যই বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি সারতে হবে। একইভাবে যারা সিন্ডিকেট করে অধিক মুনাফা লুটে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর এবং তাদের জবাবদিহি বাড়াতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে কৃষকের সার পাওয়ার পথ সুগম করতেই হবে। পর্যাপ্ত সার থাকলে, কৃষককে সার পেতে হবে-এটা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। কেননা কৃষকের সাথে দেশের খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত আছে।