বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

‘আমার তো একটাই ছেলে, ওকে ছাড়া জীবন পার করব কীভাবে’

সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
‘আমার তো একটাই ছেলে, ওকে ছাড়া জীবন পার করব কীভাবে’

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে আমি জানতে চাই, আমাকে জবাব দেন। আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি শুধু সেটার জবাব চাই।’


কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের পর আহাজারি করছেন তিনি।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় ড. নাহিদা বেগমদের বাসায় যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় সংসদ সদস্যের কাছে কাঁদতে কাঁদতে এসব আহাজারি করেন তিনি।


তিনি বলেন, এটা কোন দেশ? আমি বাঁচব কীভাবে? আমার তো একটাই ছেলে। কীভাবে আমার জীবন কাটাব? আপনারা সবাই বলেন, ওকে ছাড়া আমি আমার জীবন পার করব কীভাবে? এভাবেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।


এ সময় ড. নাহিদা বেগমের কান্না দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনিও শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে উঠেছেন বারবার। পরে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে সান্ত্বনা দেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।


প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম (১৩)। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি সে। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে আইফোনটি নেওয়ার জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।


অপ্রতীম হত্যায় কিছু ক্লু পাওয়া গেছে: পুলিশ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার ঘটনায় কিছু ক্লু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।


মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এর পর আর বাড়িতে ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই অবস্থানের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালান। ম্যাজিক প্যারাডাইস-সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অপ্রতীমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি। আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন তারা।


তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট, রাইজিংবিডি