বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ডিজেলে এখনো লিটারে ৭০ টাকা লোকসানে সরকার: রিজভী

সোনার দেশ ডেস্ক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন
ডিজেলে এখনো লিটারে ৭০ টাকা লোকসানে সরকার: রিজভী
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


‘২০৫ টাকায় কিনে ১১৫ টাকায় বিক্রি’

আলোচনা সভায় রিজভী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার সময় সরকারকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল। সে সময় দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হওয়ায় সরকারের প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে। 


তার ভাষ্য, সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সেই ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি। এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশের দামের তুলনা

বক্তব্যে বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দামও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা, ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা এবং ভারতে ১৩৪ টাকার বেশি।


তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সময়ও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।


নাশকতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির আহ্বান

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর, কাফরুল, হাইকোর্ট এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।


তিনি বলেন, যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ ও কর্মসূচি দেওয়া উচিত।


জামায়াতের সমালোচনা

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও তাদের প্রতিবাদ জানানো উচিত।


তিনি আরো বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই এবং জনগণের আস্থা অর্জনে দলটি ব্যর্থ হয়েছে। 


সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান, মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ জোটের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন। 


তথ্যসূত্র: রিাইজিংবিডি