শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় ৩৫ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত

সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন
অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় ৩৫ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত
মাংস কাটায় অংশ নেওয়া ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসৎর্গ দেখা গেছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। এদিকে জবাই করা ওই গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। 


বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাইজিংবিডি ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান।


অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা হলো ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট তীব্র ও গুরুতর সংক্রামক রোগ।


এটি মূলত গবাদি পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া) ও বন্য পশুর রোগ। অসুস্থ পশুর সংস্পর্শে এলে, তাদের মাংস কাটাকাটি বা রান্না না করে খেলে কিংবা চামড়া নাড়াচাড়া করলে মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়ায়।  এই রোগ সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। 


চামড়ায় কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে জীবাণু প্রবেশ করলে চুলকানি ও গুটি থেকে কালচে রঙের ঘায়ের সৃষ্টি হয়। সংক্রামিত ও কম সেদ্ধ মাংস খেলে জ্বর, বমি, পেটে ব্যথা এবং গলাব্যথা হতে পারে।  জীবাণুর স্পোর নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলে সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, যা মারাত্মক।


সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, জবাই করা অসুস্থ গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণুর সংক্রমণ পাওয়া গেছে।  


উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রায় পাঁচ মণ ওজনের অসুস্থ গাভী জবাই করেন। ওই গরুর মাংস কাটতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা মাংসটি ১০০ ভাগে ভাগ করেন।


গরু জবাইয়ের চার দিন পর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া চারজনের শরীরে জ্বর দেখা দেয়। পরে তাদের পেট, হাত, পা ও আঙুলে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দেয়। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় আরও ৩১ জনের শরীরে। তারা পার্শ্ববর্তী তারাপুর ইউনিয়ন, রামজীবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০) গুরুতর অসুস্থ। 


একসঙ্গে অনেকের অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা ওই গরুর অবশিষ্ট মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলেন স্থানীয়রা।


অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান ঘটনাস্থলে যান। তিনি আক্রান্তদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যান।


সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আইসিডিডিআর, বি-তে পাঠানো নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিতে হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আশা করা হচ্ছে, আক্রান্তরা চিকিৎসায় দ্রুত  সুস্থ হয়ে উঠবেন। 


সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, গৃহপালিত গরু অসুস্থ হলে তা জবাই না করে চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ। আর অসুস্থ গরু যদি মারা যায়, তবে দ্রুত মাটিতে পুতে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই অসুস্থ গরু জবাই করা যাবে না। 


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি