একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
রংপুর বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ, তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ভোলায় মেঘনা নদীর ভাঙন রোধ এবং পটুয়াখালীতে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনসহ ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি একনেকের চতুর্থ সভা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ থেকে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলোর একটি হলো রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং শক্তিশালীকরণ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এর আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদনের কথা জানিয়েছিল।
স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এগুলো হলো ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণের প্রকল্প রয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। এর আওতায় মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে। অন্য প্রকল্পটির আওতায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন’ প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের আরো একটি প্রকল্প হলো মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’-এর তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের র্যাবের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো ফেনীর সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
এদিকে, পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভায় অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো, নদীতীর সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, সড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্প রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় একনেক সভায় ১৬ সেপ্টেম্বর ১২টি প্রকল্পে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি