গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার পর উঠানে লাশ রেখে উল্লাস: যুবদল নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
জামালপুরের ইসলামপুরে মোছা. মঞ্জুরা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং স্থানীয় উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিহতের মা রিনা খাতুন বাদী হয়ে জামালপুর ইসলামপুর সিআর আমলি আদালতে মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অপমৃত্যুর (ইউডি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—নিহতের স্বামী সুজন মিয়া, দেবর লোকমান ও লুৎফর, শাশুড়ি ছুরভানু এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নম্বর চর এলাকার আহাম্মদ আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুরার সঙ্গে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর চর এলাকার সুজন মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মঞ্জুরার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আসামিরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বসতবাড়িতে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ বাদীর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনসহ অন্য আসামিরা লাশ ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে লাশ উঠানে ফেলে রেখে তাঁরা আনন্দ-উল্লাস করেন। খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় ইসলামপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হোসেন রেজা বাবু জানান, গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে আদালতে আবেদন করা হলে বিচারক ওসিকে মৃত্যুর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ইসলামপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনেইসলামপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ওসি সাহেবের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করেছি। এখন আমাকেও আসামি করা হয়েছে। মূলত আমি আগামী চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রী মহল আমাকে আসামি করেছে। এটা অন্যায়।’
ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আদালত থেকে এখনো মামলার কাগজপত্র পৌঁছায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন