মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও মিলল না চাকরি, স্বপ্ন ভাঙল শামীমা-ইসরাফিলের
জামালপুরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক চূড়ান্ত নিয়োগের দাবিতে দুই দিনের অনশনের পর ৫১ জনের মধ্যে ৪৪ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত হলেও সাতজনের স্বপ্ন থেমে গেছে চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মেধাতালিকায় প্রথম শামীমা ইয়াসমিন সুমি ও বকশীগঞ্জ উপজেলার মেধাতালিকায় প্রথম ইসরাফিল ইসলাম রতন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে ৪৪ জনের নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে সকালে তারা নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
বকশীগঞ্জ উপজেলার মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া নিয়োগ বঞ্চিত ইসরাফিল ইসলাম রতন কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোবাইলে বলেন, “আমার চাকরির বয়স এটিতেই শেষ হচ্ছে। এই চাকরিটা না হলে আর কোনো সুযোগ থাকবে না। আমি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বকশীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশে আমি প্রথম ছিলাম। অথচ এখনো নিয়োগ পাইনি। আমাদের সঙ্গে যারা ছিল, তাদের প্রায় সবাই নিয়োগপত্র পেয়েছেন। আমরা কয়েকজনই শুধু বঞ্চিত হয়েছি। সরকারের কাছে অনুরোধ,আমাদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হোক।”
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মেধাতালিকায় প্রথম শামীমা ইয়াসমিন সুমি বলেন, “কী, কারণে বাদ দেওয়া হলো, কিছুই বলতে পারছি না। অনেকের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা কয়েকজনই বঞ্চিত রয়ে গেলাম। এখন আর কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে মন্ত্রণালয়ের দিকে যাচ্ছি। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় নিয়োগ পরীক্ষায় আমি প্রথম হয়েছিলাম।”
জানা গেছে, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জামালপুর জেলায় মোট ১৩৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। প্রথম ধাপে ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর বাকি ৫১ জন নিয়োগপ্রত্যাশী চূড়ান্ত নিয়োগের দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুই দিন অনশন কর্মসূচি পালন করেন। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে ৫১ জনের মধ্যে ৪৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়ে তালিকা প্রকাশ করা হয়। ফলে এখনো নিয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন সাতজন।
জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৩৬ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ১২৯ জন সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বাকি সাতজনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, জামালপুর জেলায় ১৩৬ জনের মধ্যে ১২৯ জন চূড়ান্তভাবে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। সাতজন বাদ পড়েছেন। ১২৯ জন বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। তবে বাকি সাতজন কী কারণে বাদ পড়েছেন, তা তিনি বলতে পারেননি।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি