শনিবার, অক্টোবর ০৩, ২০২৬

মোহাম্মদপুরে চার্চ থেকে দেড় মণ ওজনের ঘণ্টা কীভাবে চুরি হলো

সোনার দেশ ডেস্ক ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৬ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৬ অপরাহ্ন
মোহাম্মদপুরে চার্চ থেকে দেড় মণ ওজনের ঘণ্টা কীভাবে চুরি হলো
মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউয়ে চার্চ ও চুরি হওয়া ঘণ্টা (সংগৃহীত ছবি)

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউয়ে একটি চার্চের দোতলার খোলা জায়গা থেকে পিতলের ঘণ্টা চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কেজি ওজনের বলে জানিয়েছে চার্চ কর্তৃপক্ষ। পুলিশের হিসাবে ঘণ্টাটির ওজন প্রায় ৭০ কেজি। চুরির কয়েক ঘণ্টা পর জাকির হোসেন রোডের একটি ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


চার্চের পাল-পুরোহিত ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চার্চে এসে তিনি দেখতে পান, সামনের ছোট গেটটি তালাবিহীন ও ভেড়ানো অবস্থায় রয়েছে। পরে ওপরে তাকিয়ে দেখেন, দোতলায় থাকা বড় ঘণ্টাটি নেই। তখনই তার সন্দেহ হয়, চার্চে চুরি হয়েছে। তিনি বলেন, পরে সবকিছু পরীক্ষা করে দেখা যায়, সিসিটিভি ক্যামেরায় রাত ১২টার পর আর কোনো রেকর্ড নেই। এরপর তারা মোহাম্মদপুর থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে আসেন বলে জানান তিনি।


পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১২টা ৩ মিনিটের পর কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা দোতলার খোলা জায়গা থেকে ঘণ্টাটি নিয়ে যায়। চুরির আগে থেকেই চার্চের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ ছিল। এ কারণে ঘটনাস্থলের সরাসরি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


পুলিশের একাধিক দল চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে শুক্রবার রাত ২টা ৫০ মিনিটে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ঘণ্টাটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।


মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। চার্চ কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ থাকার কারণও তদন্ত করা হচ্ছে। ক্যামেরাটি চার্চ কর্তৃপক্ষের কেউ বন্ধ করেছে কি না, নাকি অন্য কেউ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

দুপুরের দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।


চার্চ কর্তৃপক্ষ ও সেখানে কেয়ারটেকারের দায়িত্বে থাকা এক তরুণের বর্ণনা অনুযায়ী, চোর বা চোরেরা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। সামনের তালা ভাঙার চিহ্নও পাওয়া গেছে। সকালে ওই তরুণই ভাঙা তালাটি পড়ে থাকতে দেখেন।


তিনি জানান, চোরেরা প্রথমে একদিকে ওঠার চেষ্টা করলেও সেখানে তালা মারা থাকায় অন্যদিক দিয়ে বারান্দায় ওঠে। সেখানে হাতের ছাপ ও কাদার দাগ পাওয়া গেছে। এরপর তারা আরও ওপরে উঠে ঘণ্টাটি যেখানে রাখা ছিল সেখানে যায়।


চার্চ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘণ্টাটি খুব উঁচু জায়গায় বাঁধা ছিল। সেটি নামাতে চোরদের বেশ সময় ও পরিশ্রম করতে হয়েছে। ঘণ্টার সঙ্গে ব্যবহারের জন্য একটি মোটা দড়ি ছিল। চোরেরা সেই দড়ি ব্যবহার করেই ঘণ্টাটি নামিয়েছে বলে ধারণা করছে চার্চ কর্তৃপক্ষ।


ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ বলেন, ঘণ্টাটি নামানোর কাজটি সহজ ছিল না। তার ধারণা, তিন-চারজন না হলে এত ওপর থেকে এত ভারী ঘণ্টা নামানো সম্ভব হতো না। ঘটনাস্থলে হাতের ছাপও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।


চার্চে থাকা ওই তরুণও জানান, ঘণ্টাটি প্রায় ৭০ কেজি ওজনের এবং পুরোটা পিতলের। এত উঁচু জায়গা থেকে কীভাবে সেটি নামানো হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

তিনি বলেন, চোরেরা কীভাবে ঘণ্টাটি নামিয়েছে, সেটি নিয়ে তারা অবাক হয়েছেন। ঘটনাস্থলে ওঠানামার বিভিন্ন চিহ্নও দেখা গেছে।


সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে ওই তরুণ বলেন, পুলিশ এসে ফুটেজ পরীক্ষা করেছে। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত রেকর্ড পাওয়া গেছে। এরপর আর কোনো ফুটেজ হয়নি। ক্যামেরাটি ঘটনাস্থলের দিকেই ছিল।


ঘটনাস্থলে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন বলে জানান তিনি। পুলিশ হাতের ছাপ সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো পরীক্ষা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।


চার্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, চুরির ঘটনাটি গত বুধবার রাতে ঘটলেও ভোরে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে পুলিশকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশের অভিযানের মধ্যেই চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন