বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেব’—সংবাদ সম্মেলনে এমপি তমিজ

সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২০ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২০ অপরাহ্ন
‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেব’—সংবাদ সম্মেলনে এমপি তমিজ
ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন

“এরপর যদি ধামরাইয়ের ব্যাপারে, রাজনৈতিক ব্যাপারে, বিএনপির বিপক্ষে একটি শব্দ উচ্চারণ করেন অন্যায়ভাবে, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিব, একদম সোজা কথা”, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন।


রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ধামরাই পৌর শহরের আইঙ্গন এলাকায় সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন চাল কল মিল কিষান কোল্ড স্টোরেজে সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের কথা বলে ডেকে নেন তিনি। তার পাশে উপস্থিত ছিলেন- ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, সহ-সভাপতি রাকিবুর রহমান খান ফরহাদ, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান স্বপনসহ আরো কয়েকজন নেতাকর্মী।


শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার বালিথা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। এরমধ্যে একটি পক্ষের লোকজন সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের অনুসারী। অপর পক্ষের লোকজন ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান রোমার অনুসারী।  এ ঘটনায় রোমা সংসদ সদস্যকে সরাসরি তার সঙ্গে বিবাদের আহ্বান জানান। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় রোমাকে প্রধান আসামি করে মামলাও করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন রবিবার নিজের চালকল কারখানায় সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের কথা বলে ডেকে নেন।


তমিজ উদ্দিন বক্তব্যকালে রমিজুর রহমান রোমাকে আওয়ামী লীগ বলে অভিহিত করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন। 

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা এই গরমের মধ্যে এসেছেন, আপনাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শুধু একটা কথা বলতে চাই আপনাদের ব্যাপারে। আমি কারো শত্রু  না, আমি কারও কী বলেন, রাগের বিভাজন হই, এমন কোনো কাজ আমি করি না। আপনারা জানেন।” 


এ সময় তার সঙ্গে নেতাকর্মীরা এক যোগে, ’ঠিক‘ বলে ওঠেন।

একপর্যায়ে রমিজুর রহমান রোমার নাম উল্লেখ না করেই ইঙ্গিত করে তমিজ উদ্দিন বলেন, “৪ তারিখেও যে মানুষটাকে নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না, উচ্চারণও করতে চাই না। আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, ৪ তারিখে আওয়ামী লীগের পক্ষে এই ধামরাই সদরে মিছিল করে নাই? বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে আন্দোলন করে নাই? সেই মানুষটা, যে মানুষটি, আপনারা কী করে বলেন যে, সেই মানুষটি বিএনপির একজন মানুষ? এবং সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাকে তুলনা করতেছেন আপনারা।”


তিনি বলেন, “যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা কালকে এই নিউজটা করেছেন, নিশ্চয়ই চিনেন। আমি তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আজকে আমার সঙ্গে দয়া করে বসবেন। যারা আছেন, তারা বসবেন এখনই। যারা নাই, তাদের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে কথা বলবো। আপনাদের সম্মান রক্ষা করার জন্য।”


এ সময় তিনি বলেন, “এরপর যদি ধামরাইয়ের ব্যাপারে, রাজনৈতিক ব্যাপারে বিএনপির বিপক্ষে একটি উচ্চারণ করেন অন্যায়ভাবে, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিবে। একদম সোজা কথা।”

“স্বৈরাচারের দোসর হইয়া কে কারে শেল্টার দিল, আর ২ হাজার, ৫ হাজার টাকা খাইয়া যা খুশি তাই করবেন, এটা ভুলে যেতে হবে। ” যোগ করেন তিনি।


তমিজ উদ্দিন বলেন, “আপনারা নিজেরা কি জানেন না, বিগত দিনগুলাতে আজকে যে চ্যালেঞ্জ দিল, সে কিন্তু ভোটের চ্যালেঞ্জ দেয় নাই। সে কিন্তু জনগণের কথা বলে নাই।  ক্ষমতা থাকলে সুতিপাড়া আইসা আমার লগে মারামারি করো, তাই তো? এবং এই ‘মারামারি করুক’, এই শব্দটা কিন্তু আপনারাই বের করে নিয়ে আসছেন তার বক্তব্য থেকে। আপনারা একবারের জন্য কিন্তু প্রশ্ন করেন নাই যে, ‘আপনি কী বলতেছেন? সংসদ সদস্য আপনার সঙ্গে মারামারি করতে আসবে কেন? আপনি কে?’ আপনারা এ কথা কেন বললেন না যে, ‘আমি তমিজ সাহেবের দল করি না, আমি তারেক রহমানের দল করি।’ কেন আপনারা বললেন না, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি তমিজ সাহেবকে ভোটটা দেন নাই, তার বিরোধিতা করেছেন। আপনারা এ কথা কেন বলেন নাই যে, আপনি সন্ত্রাসী করেন, আজকে নয়, আওয়ামী লীগ যেদিন ক্ষমতায় গেছে সেদিন থেকেই?”


তিনি রমিজুর রহমান রোমার নাম উল্লেখ না করেই ইঙ্গিত করে আরো বলেন, “আপনার ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে। আপনি কি একটা ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারবেন? যে কোনো ব্যবসা করতে গেলে, পানির দোকানদারি করতে গেলেও তো ট্রেড লাইসেন্স লাগে। দয়া করে কেন আপনারা এই প্রশ্নটি তুলেন নাই যে, আপনার একটা ট্রেড লাইসেন্স নাই, অথচ আপনি ঢাকায় বাড়ি, ধামরাইয়ে কয়েকটা বাড়ি, বিশাল বিশাল অট্টালিকা।  আপনি চ্যালেঞ্জ করেন যে, তারেক রহমান যে গাড়ি চালায়, আমি সেই গাড়ি কিনেছি। আপনারা শুনেন না এটা? আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রশ্ন করতেছি, এই কথা আপনারা শোনেন না মানুষের কাছে? এই যে অগণিত টাকা-পয়সা, আপনারা একবারো কোনো প্রশ্ন করেন, এর উৎস কী?”


সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সংসদ সদস্য বলেন, “দয়া করে আপনারা সম্মানের জায়গায় থাকেন। আপনারা আমাকে ভালো করে চিনেন। অনেকেই বলেন যে, তারেক সাহেব আগের সেই তারেক সাহেব নাই। আমরা ছেড়ে দিয়েছিলাম এই কারণে। ৫ তারিখের পরে আপনারা কেউ বলেন নাই, যখন জামায়াত, এনসিপিসহ আওয়ামী লীগের দোসররা বদনাম তোলেন, বাংলাদেশে যে বিএনপির লোকরা চাঁদাবাজি করে খাচ্ছে। কিন্তু আপনারা অনেকেই, আমি সবাইকে বলব না, অনেকেই ওই দুই-চার-পাঁচ হাজার টাকার লোভে গিয়ে আপনারা প্রশংসা করেছেন চাঁদাবাজদের। তাদের মতো নেতা হয় না, তাদের মতো লোক হয় না, তারা এত জনপ্রিয়! এখন আমি ফেসবুকে কোনো সাংবাদিকের একটা পোস্ট দেখতেছিলাম, ‘এত বড় নেতা, সে এত স্বচ্ছ মানুষ, সে সুতিপাড়ার চেহারা বদলায় ফেলছে’। ”


তিনি বলেন, “এই যে ব্যাপারগুলা, এই ব্যাপারগুলা আমার বলার কথা ছিল না। তাকে আমার কথা একেবারেই বলা চলে না। তবুও, আমি সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আমাদের নেতারা তো সব জানেই।” 


সংসদ সদস্য বলেন, পরিষ্কার কথা, স্বচ্ছ-সুন্দর সংবাদ আপনারা পরিবেশন করেন। আমরা আপনাদের স্যালুট দিব। সমস্যা থাকলে বলবেন। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা করবো। কারণ আপনাদের ক্ষমতা আমার চেয়ে অনেক বেশি। আমরা সকলেই আপনাদেরকে সম্মান করি। সেই কারণে একটা খবর প্রচার করার আগে ভালো করে দেখে, বুঝে, দয়া করে করবেন। সেই সঙ্গে আমরা চাই আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই ধামরাইকে একটা মডেল ধামরাই করতে। যেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ থাকবে না।”


তমিজ উদ্দিন বলেন, “আমি ভয় পাই আমার জনগণকে, আমার নেতাকেই। আমি আমার সঙ্গে কথা বলে ফেলি। কারণ অভিভাবক হিসেবে আমি মনে করি যে, যারা আমার সঙ্গে ছিল, আমাদের সঙ্গে ছিল, তাদের আমি রাগারাগি করা মানে তাদের ভালোর জন্যই করা। প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকে আমি আদর করি। ভুল দেখলে যখন রাগারাগি করি, ধরে নিবেন যে আপনার মঙ্গলের জন্য আমি করছি। এই কারণে দুর্দিন আপনারা অনেক কষ্ট করেছেন। সুদিন যেন আপনারা এর অন্তত একটু উপভোগ করতে পারেন সেই সুদিনের জন্যই জঞ্জাল কাটা।” 


তথ্যসূদ্র রাইজিংবিডি