প্রিজনভ্যানের তালা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রাইভেটকারে তুলে দেন এসআই প্রবীর
প্রিজনভ্যানের ভেতরে ২৯ আসামি। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদেরকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল পুলিশি পাহারায়। মাঝপথে থামানো হলো ভ্যান। এর পর খোলা হলো প্রিজনভ্যানের তালা। দুই হাজতিকে নামানো হলেও একজন আর ভ্যানে উঠলেন না। পরে রচিত হলো ‘আসামি পালিয়ে যাওয়া’র গল্প।
কিন্তু, আট দিন পর সেই গল্পের আড়ালে নাটকের চিত্রনাট্য সামনে এসেছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনো আকস্মিক পলায়ন ছিল না; বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনার হোতা ছিলেন পাহারার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা।
ঢাকা থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রিজনভ্যান থেকে বের করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় জালিয়াতি ও অপরাধে সহায়তার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলাতক আসামি পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৯ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
ফেরার পথে তাঁতীবাজার এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজনভ্যানটি থামানো হয়। ওই সময় ভ্যানের ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন প্রবীর কুমার। তিনি চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ভ্যানের তালা খুলে দেন। পিচ্চি রাজাসহ দুই হাজতিকে ভ্যান থেকে নামানো হয়। অন্য হাজতি খাইরুল বাশারকে পরে ভ্যানের সামনের দিকে বসানো হলেও পিচ্চি রাজাকে আর ভেতরে নেওয়া হয়নি।
পুলিশের দাবি, পুরো ঘটনাটিই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। রাস্তার পাশে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে পিচ্চি রাজাকে তুলে দেন প্রবীর কুমার। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখিয়ে তিনি আবার পাহারা দেওয়া পুলিশ দলের সঙ্গে যোগ দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রবীর কুমার শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে আসামি নিখোঁজ হওয়ার একটি গল্প তৈরি করেন। এভাবেই প্রিজনভ্যান থেকে পরিকল্পিতভাবে বের করে দেওয়া আসামির ঘটনাকে ‘পলায়ন’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই পিচ্চি রাজা পলাতক আছেন। আট দিন ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানে দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে পলাতক পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি