বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

এসএসসি-এইচএসসির খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম করলে ৫ বছরের জেল

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন
এসএসসি-এইচএসসির খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম করলে ৫ বছরের জেল

এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরীক্ষার ফল বা মেধা তালিকায় অবৈধ পরিবর্তন ও ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনে’ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িত পরীক্ষকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন অনুমোদন করা হয়। এতে পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধা তালিকায় হ্যাকিং কিংবা অবৈধ পরিবর্তনের ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।


এদিকে, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে ইচ্ছাকৃত অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশোধিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর খাতা মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশোধিত আইনের আওতায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ ভুল, অসাবধানতা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর বাড়ানো বা কমানোর ঘটনাকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ কারণে ‘অনুচিত নম্বরের’ সীমা নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে অসংগতি ধরা পড়ে। গত ১০ আগস্ট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭৭ জন।


ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময় মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ শিক্ষার্থী আবেদন করে। একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করায় মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসে।


পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪ হাজার ৫৪৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৬ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৬৩৬ জনের। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫১টি উত্তরপত্রে।


আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি খাতা মূল্যায়নের মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ কারণে সাধারণ ভুল ও ইচ্ছাকৃত অনিয়মের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করে খাতা মূল্যায়নে আরও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।’


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ