বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, পরে অপসারণ

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ন
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, পরে অপসারণ

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা দিয়ে অবমাননা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানো অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।


ঝিনাইদহের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঝিনাইদহের কৃতী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা সারাদেশের গর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবন দিয়ে তিনি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রচনা করেছেন। এর আগে তার নামে নির্মিত ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। আবার আজকের এ জুতার মালা পরানোর ঘটনাটিও অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে, তদন্ত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।


ঝিনাইদহের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানো হয়েছে। পরে সেটি অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, বারবার এই ভাস্কর্যের ওপর হামলা হচ্ছে। আমি মনে করি, কোনো একটি গোষ্ঠী পূর্বপরিকল্পিতভাবে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে হামলা, ভাঙচুর এবং সর্বশেষ জুতার মালা পরিয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি ঝিনাইদহে স্থাপন করা হোক, ওই গোষ্ঠী তা চায় না। এরা মুক্তিযুদ্ধের অপশক্তি, স্বাধীনতাবিরোধী। দ্রুত তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।


এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রাতে কে বা কারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করা হবে। এজন্য সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি আলোচনা সভা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে বলেছি।


উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ১৭ জুলাই ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত ভাস্কর্য ভাঙার কাজ শুরু হয়। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু করে। তখনই ভাস্কর্য নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রকল্পের মূল ফাইল খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি ও সামনে আসে।


তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট