বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

গাজী নজরুল জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে: বিচারক

সোনার দেশ ডেস্ক ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
গাজী নজরুল জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে: বিচারক

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামিন দিলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।


বুধবার (৭ অক্টোবর) নজরুল ইসলামের জামিন শুনানিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।


এদিন গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মিজানুর রহমান ও মাহাবুবুর রহমান জামিনের শুনানি করেন। অন্যদিকে মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও তার আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হননি।


শুনানিতে আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আপসের শর্তে নজরুল ইসলামের জামিন প্রার্থনা করছি। আবেদনের সঙ্গে আপসনামার ফটোকপি জমা দিয়েছি। বাদী আদালতে উপস্থিত আছেন।’


এ সময় বিচারক মরিয়মের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহর কাছে জানতে চান, ‘আপস করেছেন?’


জবাবে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ।’

বিচারক জানতে চান, ‘ভিকটিম কে হন?’

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘মেয়ে।’


নজরুলের আইনজীবী বলেন, ‘বাদী আসামির আত্মীয়। তাদের মধ্যে আপস হয়েছে। আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন। জামিন দেওয়া হোক।’


তবে জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, ‘এটি দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার মামলা। এ ধরনের মামলায় আপস আইনসঙ্গত নয়। বাদী শুধু সংবাদদাতা। এরপর মামলার তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’


তিনি আরও বলেন, ‘মরিয়মের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। বাদী মামলা করে আবার জামিনে আপত্তি নেই বলতে পারেন না। প্রয়োজন হলে বাদীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।’


জবাবে নজরুল ইসলামের আইনজীবী বলেন, ‘আমরা মামলার বিষয়ে আপস করিনি, শুধু জামিনের বিষয়ে আপস করেছি। আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।’


দুইপক্ষের শুনানি শেষে বিচারক বলেন, ‘আসামি শুধু বয়স্ক, এ কারণে বা আপস অযোগ্য ধারার মামলায় আপসনামা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভিকটিম একজন অতি অল্পবয়সী মেয়ে। তিনি বিভিন্ন চিঠিতে নোট লিখে গেছেন। আসামির হেফাজতে থাকাবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন।’


বিচারক আরও বলেন, ‘আসামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সমাজে ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা হতে পারে। আসামির হাজতবাসও বেশি নয়। এ পর্যায়ে তার জামিন নামঞ্জুর করা হলো।’


আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক রাখতে আপস করা হয়েছে। কোনও চাপাচাপিতে নয়। ন্যায়বিচার অবশ্যই চাই। তবে ওবায়দুরকে মূল আসামি করা দরকার ছিল।’


গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।


পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


মামলায় নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে নজরুল ইসলামের আরও দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।


৩০ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হলে আদালত মাকছুদা ইসলামকে জামিন দেন। তবে নজরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। আসামিপক্ষ থেকে তখনও বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের কথা জানানো হয়েছিল।


অন্যদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হলে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। মঙ্গলবার জামিন শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে বুধবার ধার্য করা হয়। তবে বুধবার ওবায়দুর রহমানের আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হননি।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন