বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বাড়ছে টার্গেট কিলিং, অপরাধের হটস্পট হয়ে উঠছে খুলনা

সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ন
বাড়ছে টার্গেট কিলিং, অপরাধের হটস্পট হয়ে উঠছে খুলনা

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে রূপসা, দিঘলিয়া, তেরখাদা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় অস্ত্রধারীদের তৎপরতা ও অপরাধীদের দাপটে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। চলতি বছর জেলায় ৩৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৯টি ছিল গুলি করে টার্গেট কিলিং। সর্বশেষ ৪ ও ৫ অক্টোবর দিঘলিয়া ও রূপসায় পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


রূপসা উপজেলায় নিহত আক্তার ঢালী থানায় নিরাপত্তা চেয়েও হত্যার শিকার হন। এতে হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন। কেউ অভিযোগ কিংবা মামলা করতেও ঘাবড়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চান না সাধারণ মানুষ।


ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ আগস্ট ছেলে জয় ঢালী হত্যার ঘটনায় মামলা করায় ঘাতকরা বাবা আক্তার ঢালীকে গত ৫ অক্টোবর গুলি করে হত্যা করেন। আক্তার ঢালী নিরাপত্তা চেয়ে ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় সাধারণ ডায়রি করেছিলেন। কিন্তু তারপরও শেষরক্ষা হলো না তার।


এর আগে ৪ অক্টোবর দিঘলিয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে চরমপন্থি নেতা নাসিমুল গনি নাসিমকে নিজ বাড়ির পাশে চায়ের দোকানে হত্যা করে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বটিয়াঘাটা, রূপসা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলায় উঠতি বয়সি যুবকদের মহড়া বেড়েছে। বিভিন্ন খাল বিল এলাকায় তারা ঘাঁটি বেঁধেছে। গ্রামাঞ্চল হওয়ায় অপরাধ করে তারা এসব জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে। পুলিশও তাদের সহজে খুঁজে পায় না। ফলে এসব এলাকায় অস্ত্রের মহড়া বেড়েছে। একসঙ্গে ২-৩টা মোটরবাইক মানে এখন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে ঘুরছে বোঝা যাচ্ছে না। বটিয়াঘাটা এখন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। প্রায় সময় চুরি ছিনতাই হলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলতে চান না। আর রূপসা অঞ্চল বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের সহজ এলাকা হওয়ায় অপরাধীরা এখানে বেশি আশ্রয় নিচ্ছে।


জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় চলতি বছর ৩৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২৫টি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন হলেও ১০টি এখনো তদন্তাধীন আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি রূপসা উপজেলায়। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সর্বশেষ দুই টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।


আরও জানা যায়, চলতি বছরের ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে গুলি করে টার্গেট কিলিং হয়েছে ৯টি। মাদককে কেন্দ্র করে হত্যা তিনটি, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও মারামারিতে ১৩টি, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ে ২টি, অজ্ঞাত কারণে ২টি, শ্বাসরোধে দু’টি নবজাতক হত্যা এবং পারিবারিক বা পরকীয়াজনিত কারণে আরও চারটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।


জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, খুলনা জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা এই চার থানা এলাকা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত অপরাধীদের খুঁজে পেতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তালিকাও প্রস্তুত। ২৪ ঘণ্টা জেলা পুলিশ মাঠে অভিযানে আছে।


খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, খুলনা জেলায় স্পেশাল অপারেশন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রূপসা উপজেলায় জয় ঢালী ও তার বাবা আক্তার ঢালী এবং দিঘলিয়া উপজেলায় নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম হত্যাকাণ্ডে তদন্তের পাশাপাশি প্রতিটি থানায় বিশেষ করে রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা এ চারটি থানাকে প্রকাশ করেই স্পেশাল অপারেশন চালানো হচ্ছে।


রূপসায় আক্তার ঢালী হত্যার ঘটনায় তিনি বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করার পরও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি সেনসিটিভিটি। সেটি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে নাম আসা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


তবে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খুলনা জেলায় স্পেশাল ড্রাইভ শুরু হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ