লিফট চালু থাকার পরও সিঁড়ি দিয়ে ৬ তলায় পলক, হাতকড়া নিয়েও আপত্তি
‘লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে।’ আদালতে এভাবেই নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই সঙ্গে মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে হাতকড়া সামনে পরানোর ব্যবস্থা করতে আদালতের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য পলকসহ আট আসামিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ হাজির করা হয়। বিচারক রবিউল আলমের আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক তার এই আপত্তির কথা জানান।
পলকের বক্তব্য শুনে বিচারক বলেন, ‘এটা তো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।’ জবাবে পলক বলেন, ‘হাতকড়া সামনে রাখলেই হয়।’
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পিপির মনে রাখা দরকার, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।’
আদালতের কার্যক্রম শেষে পলককে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নেওয়া হয়। হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের দেখে তিনি আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।’
এদিন মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির কথা থাকলেও দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় তা হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের এ মামলায় আদালতে আনা যায়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাজাহান খান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার অপর আসামিদের কেউ জামিনে এবং কেউ পলাতক।
অভিযোগপত্রে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান।
এ ছাড়া রয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের চাঁদউদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে পলককে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সময় চাইলে আদালত শুনানি পিছিয়ে ৮ অক্টোবর নতুন তারিখ দেন।
বৃহস্পতিবারও দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হয়নি। ফলে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করবেন।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ