রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ব্যান্ড পার্টি ও মিষ্টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উল্লাস

তিন যুগ পর রাবি স্টেশনে থামল ট্রেন

রাবি প্রতিবেদক, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
তিন যুগ পর রাবি স্টেশনে থামল ট্রেন

প্রায় তিন যুগের অপেক্ষা ও আন্দোলনের পর অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি করেছে আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস। যাত্রাবিরতিকে ঘিরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ব্যান্ড পার্টি ও মিষ্টি নিয়ে ট্রেনটিকে বরণ করে নেন তারা।


‎শনিবার রাতে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এবং তিতুমীর এক্সপ্রেস রাবি রেলস্টেশনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় ব্যান্ড পার্টির তালে তালে আনন্দ করেন তারা এবং ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।


‎এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে দুটি ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়েও আলোচনা চলছে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ সুবিধা দীর্ঘমেয়াদি করতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে ট্রেনে ভ্রমণের সময় অবশ্যই টিকিট কাটতে হবে এবং রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করা যাবে না।”


‎সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হলেও স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিব। মধুমতী, বনলতা ও পদ্মা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে। আপাতত এসব ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাটল বাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


‎দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর পাওয়া এ সুযোগকে স্থায়ী করার আহ্বান জানিয়ে আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা আজ আছি, কাল থাকব না কিন্তু এই সুযোগ যেন দীর্ঘদিন বজায় থাকে, সে দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।”


‎এর আগে,দীর্ঘদিন ধরে রাবি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্টেশনটি কার্যত অকার্যকর থাকায় বিশেষ করে রাতে ট্রেনে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ক্যাম্পাসে ফিরতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। দীর্ঘ আন্দোলন ও দাবির পর অবশেষে তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় রেল কর্তৃপক্ষ।