বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

পদ্মা নদীর চর দখল নিয়ে দুই বাহিনীর গোলাগুলি, আতঙ্ক

সোনার দেশ ডেস্ক ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
পদ্মা নদীর চর দখল নিয়ে দুই বাহিনীর গোলাগুলি, আতঙ্ক

পদ্মা নদীর চরের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনা ও কুষ্টিয়া সীমানায় দুটি অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে চর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


পাবনার লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার ‘ডিগ্রির চর’ এবং পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় এ সংঘর্ষ চলে।


তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।


স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে জানা যায়, ডিগ্রির চর বেশ কিছুদিন ধরে ‘কালু বাহিনী’র নিয়ন্ত্রণে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ‘কাকন বাহিনী’র সদস্যরা একটি ট্রলারে করে পদ্মা-গড়াই নদী মোহনায় এসে ডিগ্রির চরের দিকে লক্ষ্য করে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।


ঘটনার সময় চরের কৃষি জমিতে অন্তত অর্ধশত কৃষক কাজ করছিলেন। গুলির শব্দে তারা আতঙ্কে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।


পরবর্তীতে চরে অবস্থানরত ‘কালু বাহিনী’র সশস্ত্র সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে শেষ বিকালের দিকে ‘কাকন বাহিনী’ আরও দুটি ট্রলারে অতিরিক্ত অস্ত্র ও সদস্য এনে শক্তি বৃদ্ধি করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে অন্তত কয়েকশ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে কৃষকদের ভাষ্য।


একজন কৃষক বলছিলেন, “আমরা গরিব মানুষ, চরের জমিতে চাষাবাদ করে জীবনযাপন করি। মাঝেমধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে আমরা খুবই ভয়ে থাকি। কেননা দুপক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে কখন আমাদের জীবন চলে যায়!


“সত্যি চরম ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন দুগ্রুপ গোলাগুলি শুরু করে। আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাই।”


এ বিষয়ে রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “দুপুরের দিকে গোলাগুলির খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশের দল পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের একটি দলও তাদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয়। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন পর্যন্ত আর কোনো গুলির শব্দ পুলিশ বা কৃষকরা শুনতে পায়নি।


“পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে আমরা এসব বাহিনীকে ধরতে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করেছি। প্রয়োজনে আবারও অভিযান চালানো হবে, এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ