ঈশ্বরদীতে দুটি বসতবাড়ি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিল প্রতিপক্ষ
পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে দুটি বসতবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করার পর থেকে আপন দুই ভাইয়ের দুটি পরিবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাঘইল কাঁঠালতলা এলাকার ঘটনাস্থলে পরিবার দুটির সদস্যদের পক্ষ থেকে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আদালতে বিচারাধীন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদেরই মামাতো ভাই মতিয়ার রহমান, খোকন, খায়ের ও রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তিনি বলেন, মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে তাঁরা প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করছেন। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা করেন তারই মামাতো ভাই মতিয়ার। যা এখনো আদালতে বিচারাধীন। তিনি অভিযোগ করে জানান, আদালত কিংবা প্রশাসনের কোনপ্রকার অনুমতি ছাড়াই তাঁদের বসতবাড়ি ভেঙে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী জামিরুল ইসলামের ভাই শিহাব উদ্দীনের দাবি, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় এবং তাদের কাছে অস্ত্র থাকায় প্রতিবাদ করতে গিয়েও প্রাণভয়ে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নেন তারা। আকস্মিক এই হামলায় তাঁদের মাথার ছাদটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তারা। এই ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ তাঁদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে অসহায়ত্ব জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের দুটি পরিবার অসহায় অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই পরিবার।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে জামিরুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করার পর রাতেই প্রধান আসামী মতিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান ওসি।