বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

গ্রাম আদালতে রাজশাহী বিভাগে ৩২ মাসে ৭০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ন
গ্রাম আদালতে রাজশাহী বিভাগে ৩২ মাসে ৭০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ আদায়

দূরবর্তী আদালতে যাতায়াত, মামলা পরিচালনার ব্যয় ও দীর্ঘসূত্রতার ভোগান্তি এড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দিচ্ছে গ্রাম আদালত। রাজশাহী বিভাগে ৩২ মাসে এ আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় হয়েছে ৭০ কোটি ৭২ লাখ ৪২ হাজার ৫১৩ টাকা। এ সময়ে সরাসরি দায়ের করা ৫৭ হাজার ৮৯৬টি মামলার পাশাপাশি উচ্চ আদালত থেকে পাঠানো ৬ হাজার ৫৫৬টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ন্যায়বিচার পেতে গ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৯৮ জন নারী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও স্থায়িত্বশীলকরণবিষয়ক দিনব্যাপী সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ৩২ মাসের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।


সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত কার্যকর হলে ছোটখাটো বিরোধের সমাধানের জন্য সাধারণ মানুষকে দূরবর্তী আদালতে গিয়ে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয় না। এ ব্যবস্থার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ করতে হবে। সভায় বক্তারা বলেন, জমিজমা, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধসহ আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসা করা গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে। একই সঙ্গে নিয়মিত আদালতে মামলার চাপ কমাতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।


দরিদ্র, নারী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী যাতে সহজে ন্যায়বিচার পেতে পারে, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সভা পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক নজরুল ইসলাম। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এভিসিবি-৩ প্রকল্পের স্থানীয় সরকার বিভাগের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মো. আনোয়ার ইমাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর পরিচালক মোছা. তাছলিমা খাতুন। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।