হামলায় জখম বাবা মারা গেলেন হাসপাতালে, মেয়ের লাশ মিলল খেতে
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ছয় বছরের মেয়েকে রেখেই পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন এক যুবক। পরে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেল জমিতে আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন যুবকও।
বুধবার সন্ধ্যার আগে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিয়া।
নিহতরা হলেন, রামকৃষ্ণদি গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে গোলাপ হোসেন (৪০) এবং তার মেয়ে তওবা (৬)। তবে গোলাপ সপরিবারে শ্বশুরালয় লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে থাকতেন।
ওসি মো. আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, রামকৃষ্ণদীর একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন জয়নাল মিয়া। মেয়েকে নিয়ে বুধবার তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন গোলাপ।
পরে সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফেরার পথে তারা হামলার শিকার হন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গোলাপ হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হামলাকারীরা। বাধ্য হয়ে শিশু কন্যাকে রেখেই দৌড়ে পালান তিনি।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু ছয় বছর বয়সি মেয়ে তওবার ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছিলেন না তিনি।
পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে কুপিয়ে হত্যা করা শিশুটির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এবং দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গোলাপ।
গোলাপের শাশুড়ি তাসলিমা বেগম বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন।
ওসি আলাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা যাবে না। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ