রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ঈশ্বরদীর শিমগাছে ভাইরাস ও পচন, কেটে ফেলার পরামর্শ কৃষি কর্মকর্তার

WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৫৫ অপরাহ্ন
WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৫৫ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি


পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নে ৩০ বছর ধরে ব্যাপক শিম আবাদ করার কারণে সারা দেশে এই ইউনিয়ন ‘শিমসাগর’ হিসেবে পরিচিত। এই ইউনিয়নের সব গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে শিম চাষ করার কারণে এলাকার সবাই কমবেশি শিম চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন বছরের পর বছর ধরে। শিম সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও গত এক যুগ ধরে কৃষকরা আগাম জাতের অটো শিম চাষ আবাদ করে প্রতি বছরই লাভবান হচ্ছেন।

কিন্তু এবার অনিয়মিত বৃষ্টি ও অতিবর্ষণের কারণে শিমের জমিতে হলুদ মোজাইক ভাইরাসসহ সাদা মাছি ও জাবা পোকার আক্রমণ করেছে। ফলে চাষিরা তাদের শিম আবাদ ও উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

জানা গেছে, আষাঢ় মাসে আগাম শিমের (অটো শিম) আবাদ শুরু হয়। কিন্তু এবার বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে ভাইরাস আক্রমণ করছে। গাছের পাতা বাদামি ও হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে, লতা-ডগা কুঁকড়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ‘আক্রান্ত লতা, পাতা ও ডগা কেটে ফেলছেন। বর্তমানে বেশিরভাগ জমিতে ফুল ফুটেছে, কিছুতে ফলন শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে ফুল ঝরে যাচ্ছে। ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে কীটনাশক ছিটানো সত্তেও কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। ভাদ্র মাসের শুরু থেকে ঈশ্বরদীর বাজারে আগাম শিম বিক্রি শুরু হলেও এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে মাত্র ১০-১২ কেজি শিম পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন হিসেবে অন্য বছরের তুলনায় এই পরিমাণ খুবই কম।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবছর ঈশ্বরদীতে শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২৯০ হেক্টর, যার মধ্যে ৮৯০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের অটো শিমের আবাদ হয়েছে। অটো শিম আবাদি গ্রাম রামনাথপুর, বেতবাড়িয়া, শেখপাড়া, মুলাডুলি, ফরিদপুর, বাঘহাছলা, সরাইকান্দি, আটঘরিয়া ও শ্রীপুর-পরিদর্শনে দেখা গেছে, শিমের লতা-পাতা ফুলে ভরা, মাঝখানে শিম ঝুলছে, কিন্তু ফলন কম। কৃষকরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত, কেউ শিম তুলছেন। তবে ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণ তাদের উদ্বিগ্ন করছে। শেখপাড়া গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে ভাইরাস দেখা দিয়েছে। লতা কুঁকড়ে যাচ্ছে, পাতা হলুদ হয়ে পড়ছে। কীটনাশক ছিটাচ্ছি, তাও খুব বেশি ফল হচ্ছে না। এবার শিমের ফলন কেমন হবে তা বোঝা যাচ্ছে না।’ বাঘহাছলা গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি ও ভাইরাসের আক্রমণে শিমের ডগা ও লতা শুকিয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক দেওয়ার পরও ফলন কম। মুলাডুলি আড়তদার সমিতির অর্থ সম্পাদক ও শিম আবাদি আমিনুর রহমান ‘শিম বাবু’ বলেন, এখন প্রতি মণ শিম বিক্রি হচ্ছে ৬,৮০০ টাকা থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। মুলাডুলি এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষকের আশা পোকার আক্রমন ও অতি বৃষ্টিতে আবাদ ও ফলনে ক্ষতি হলেও তারা সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

মুলাডুলি ইউনিয়নের সরাইকান্দি এলাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুমানা পারভীন বলেন, অতিবৃষ্টিতে সময়মতো পরিচর্যা করা সম্ভব হয়নি। কিছু গাছে ভাইরাস দেখা যাচ্ছে। সাদা মাছি ও জাবা পোকা কীটনাশক ব্যবহার করলে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ভাইরাস আক্রান্ত হলে গাছ কেটে ফেলারও পরামর্শ দেন তিনি। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এবছর ঈশ্বরদীতে ৮৯০ হেক্টর জমিতে আগাম শিম চাষ হয়েছে। ক্ষতি হলেও বৃষ্টির প্রবণতা কমলে কৃষকরা আবার লাভবান হবেন বলে আশা করেন কৃষি কর্মকর্তা।