রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ঈশ্বরদী আঁশ ছাড়িয়ে দিন শেষে এক আঁটি পাটকাঠি, এতেই খুশি নারীরা

WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৫৩ অপরাহ্ন
WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৫৩ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি


সড়কের পাশে বসে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে দিন শেষে এক আঁটি পাটখড়ি (পাটকাঠি বা পাট শোলা) নিয়ে বাড়ি ফিরেই খুশি গ্রামের ঝি-বৌয়েরা। এবছর বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে নদনদী ও খাল-বিলে যথাসময়ে পানি আসায় ঈশ্বরদীতে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত পাটচাষিরা। ব্যস্ত গ্রামের নারীরাও। ডোবায় জাগ দেওয়া পাট তুলে তা থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করেন সাধারণত গ্রামের দিনমজুররা।

এ সময়ে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকার নারীরাও অংশ নিয়ে থাকেন এই আঁশ ছাড়ানোর কাজে। উপজেলাজুড়ে পাটচাষিরা যখন পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তখন গ্রামের নারীরা তাদের প্রয়োজনে কৃষকদের পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে সহযোগিতা করছেন আনন্দচিত্তে। বাড়তি আয়ের আশায় স্থানীয় নারীরাও পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু মজুরি হিসেবে নগদ টাকা নয় পাটের খড়ি বা পাট শোলাই মজুরি হিসেবে পেয়ে থাকেন এই নারীরা। দিন শেষে এক আঁটি পাটখড়ি পেয়েই খুশি নারীরা।

সরেজমিন দেখ গেছে, উপজেলার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, শহরের ফতেমোহাম্মদপুর ও বাইপাস স্টেশন এলাকায় নারীরা নিজেদের জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর পাশাপাশি অন্য কৃষকের পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে মজুরি হিসেবে পাচ্ছেন পাটকাঠি। অনেকে নিজের বাড়ির জ্বালানি, আঙিনার বেড়া দেওয়াসহ সংসারের নানা কাজে লাগাচ্ছেন মজুরি হিসেবে পাওয়া এই পাটকাঠি। অনেকে নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে আঁটি হিসেবে বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকাও আয় করছেন। গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরা দল বেঁধে সড়কের পাশে বসে পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। পাটের আঁশ ছাড়াতে কৃষককে আলাদা কোনো মজুরি দিতে হচ্ছে না। নারীরা পাটকাঠি বাড়িতে নিয়ে শুকিয়ে আশপাশের হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রিও করেন।

মুলাডুলি গ্রামে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত গৃহবধু সুফিয়া খাতুন পাশের বাড়ির কৃষক জহুরুল ইসলামের পাট থেকে গত কয়েক দিন ধরে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনার বেড়া দেওয়া, জ্বালানি ও সংসারের নানা কাজে ব্যবহারের পর যা অবশিষ্ট ছিল তা থেকে কিছু বিক্রি করেছি। দাশুড়িয়া এলাকার পাটচাষী খন্দকার আলমাস আলী হিটু বলেন, গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুর্ভোগ হয়েছিল। তবে এবার পাটখেত সংলগ্ন খাল-বিলেই পাট জাগ দিতে পেরে পরিবহন খরচ যেমন কমছে তেমনি গ্রামের নারীরা পাট খড়ির বিনিময়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করায় বাড়তি খরচও এবার অনেক কম হচ্ছে। এ বছর বিভিন্ন হাটে পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় ভালো লাভের আশা করছেন চাষিরা।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা পাট কেটে ক্ষেতের আশপাশেই জাগ দিতে পারছেন। এতে পরিবহন খরচ কমেছে, তারা লাভবান হচ্ছেন।