প্রতীক্ষার অবসান : ঘুচলো বিনোদনের অভাব ‘আই লাভ ঈশ্বরদী’র যাত্রা শুরু, ‘গোধুলী’ ও ‘সাঁঝের মায়া’য় ছড়িয়ে পড়েছে মুগ্ধতা

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা):
প্রতীক্ষার অবসান হলো। ‘গোধুলী’ ও ‘সাঁঝের মায়া’য় ছড়িয়ে পড়লো মুগ্ধতা। বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন করা হলো ‘আই লাভ ঈশ^রদী’। রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সাঁড়া ঘাট এলাকার পদ্মা পাড়ে নতুন পর্যটন স্পট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর ‘আই লাভ ঈশ্বরদী’ কে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জনসাধারণ ও ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের জন্য। এর একপাশে ‘গোধুলী’ ও অন্য পাশে ‘সাঁঝের মায়া’ নামকরনে দুটি কর্নার ও নান্দনিক স্পট স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে বসে প্রমত্তা পদ্মা ও নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে সহজেই।
পাশাপাশি পদ্মা নদী থেকে ইলিশ মাছ ধরার দৃশ্য ও তাজা ইলিশ সংগ্রহ করারও সুযোগ বাড়লো। পরিবার ও স্বজনদের সাথে নিয়ে মুখরোচক নানা ধরনের খাবার সংগ্রহ ও সুপেয় পানি পান করাসহ নির্মল আনন্দ উপভোগ করার দারুন সব আয়োজনে অংশগ্রহণ করা যাবে এখন থেকে প্রতিদিন। ঈশ্বরদীবাসীর জন্য নতুন এই পর্যটন কেন্দ্রে এসে পর্যটকরা যাতে কোন সমস্যায় না পড়েন সে জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আধুনিক মানের টয়লেট নির্মান, ১০টি নান্দনিক গোলঘর, বটবৃক্ষের চারপাশে টাইল্স বেষ্টিত সৌন্দর্য বর্ধন, যাতায়াতের জন্য রাস্তা পাকা করণ, রাতের আলো বাড়াতে ১০টি সোলার প্যানেলসহ বাতির ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং জোন ছাড়াও সাঁড়া ঘাটের এই পর্যটন স্পটে বসে প্রমত্তা পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার দারুন সব আয়োজন করে গড়ে তোলা হয়েছে এই ‘আই লাভ ঈশ্বরদী’কে। পদ্মা নদীর দৃশ্য ও সৌন্দর্য সামনে রেখে যাতে ছবি তোলা যায়, সে চিন্তা করে সাঁড়ার এই পর্যটন স্পটে দারুন সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যায়ে মাত্র ২ মাসের মধ্যে শেষ করা হয়েছে ‘আই লাভ ঈশ্বরদী’ স্থাপনের সকল কার্যক্রম।
জানা গেছে, পাবনার ঈশ^রদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঈশ্বরদী ইপিজেড, বন্ধ বিমান বন্দর, জোড়া সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখানে পর্যটন কেন্দ্র বা সাধারণ জনসাধারনের বিনোদনের ব্যবস্থা ছিলনা। দেশী বিদেশী হাজার হাজার মানুষের কথা বিবেচনা করে ঈশ্বরদীর সাঁড়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২ মাস আগে এটি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে সাঁড়া ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণা ঘটে। কিন্তু এখানে এসে নদীর পানি দেখা ছাড়া আর কোন উপভোগ্য কোন ব্যবস্থা ছিল না এতদিন। সে কথা বিবেচনায় রেখে সুস্থ্য বিনোদন ও মুক্ত বাতাসের নির্মল পরিবেশ উপহার দিতেই ঈশ্বরদীর সাঁড়া ঘাট থেকে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে এবং ঈশ্বরদীকে আরো এক ধাপ উচ্চতায় তুলে ধরতে ‘আই লাভ ঈশ্বরদী’ নামকরণ করে গড়ে তোলা হয়েছে এই পর্যটন স্পট।
মূলত: ঈশ্বরদীর প্রতি ভালবাসা থেকেই ‘আই লাভ ঈশ্বরদী’ নামকরণ করে এই পর্যটন স্পট তৈরীর পরিকল্পনা করা হয় বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবীর কুমার দাশ । তিনি জানান, ঈশ্বরদী ও আশেপাশে প্রায় ৫ হাজার রাশিয়ান নাগরিকসহ এই অঞ্চলের হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসু মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে এখানে বেড়াতে এসে এতদিন ভালো পরিবেশ পাচ্ছিল না। ‘আই লাভ ঈশ্বরদী’ পর্যটন স্পট বাস্তবায়নের ফলে এখন ভ্রমন পিপাসু মানুষের বিনোদনের অভাব ঘুচলো।
এদিকে এই প্রথমবারের মত ঈশ্বরদীতে একটি পর্যটন স্পট বাস্তবায়নের খবর শুনে ঈশ্বরদী শহর ও আশেপাশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যতা দেখা গেছে। এখানে বেড়াতে আসার জন্য আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাঁড়া ঘাটের ব্যবসায়ী ও ছোট ছোট দোকানীদের ভাষ্য, আগের চেয়ে এখানে মানুষের ভিড় ক্রমশ: বাড়ছে। তাদের দোকানে বিক্রিও আগের চেয়ে বেড়েছে অনেক। রিক্সা, অটোরিক্সা চালকরা বলেন, ছুটির দিনে শহর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাঁড়ার এই ঘাটে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে, তাদেরও আয় বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে এখানে কিছু মানুষ নদীর পানি বাড়ার সময় পানি দেখতে আসতো, এখন প্রতিদিনই প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। এ কারনে এখানে ছোট ছোট ঘর তুলে চা, চটপটি, মুখরোচক খাবারের দোকান ছাড়াও নানা ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি করে আয়ের নতুন পথ তৈরী হয়েছে। আবার ইলিশসহ পদ্মা নদী থেকে ধরা নানা ধরনের তরতাজা মাছ সংগ্রহও করা যাবে সহজেই।
‘আই লাভ ঈশ্বরদী’র পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবীর কুমার দাশ বলেন, ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প, ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৫ হাজারেরও অধিক বিদেশী নাগরিক ও ঈশ্বরদীর সব শ্রেণির মানুষের বিনোদন সহজেই উপভোগের জন্য এই পর্যটন স্পট নির্মান করা হয়েছে।