বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯ যুদ্ধবিমান

সোনার দেশ ডেস্ক ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:২২ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:২২ অপরাহ্ন
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯ যুদ্ধবিমান
জর্ডানের মুয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটি। ছবি: এএফপি

রাতভর ইরানের চালানো হামলায় জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব বলছে, অন্তত ৯টি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। তবে তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।


সিবিএসের প্রতিবেদক জেনিফার জ্যাকবস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে জানান, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমান—যা ‘ওয়ার্টহগ’ নামেও পরিচিত—হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একটি ডানা হারিয়েছে। এ ছাড়া অন্তত আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সেগুলো আবারও কাজে ফিরিয়ে আনা হয় প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে। ইরানের হামলার সময় জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়।


জেনিফার জ্যাকবস লিখেছেন, ‘ইরানের হামলা প্রতিহত করতে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ৩০ টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের হামলার আগের রাতের এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর। এর আগে একটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই পাঁচটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছিল।


এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা আটটি ট্যাংকার ও দুটি যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিটিও ছিল। মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানশক্তির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।


চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার পর এই হামলা হয়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক ঘাঁটি ও মিত্রদের ওপর হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শাস্তিমূলক অভিযানের’ অংশ হিসেবে তারা ‘জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালিয়েছে।


তেহরান আরও জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা এক ডজনেরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের বাইরে নিষিদ্ধ এলাকার পরিধিও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। কয়েক মাস ধরে তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চালিয়ে আসছে।


হামলার পরপরই জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সেগুলো প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করেছে। জর্ডানের সেনাবাহিনীর এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৮টি সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।


ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা হিসেবে পরিচিত রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের শর্ত মেনে নিলে যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে লেবানন ও ইয়েমেনের যুদ্ধসংক্রান্ত দাবিও রয়েছে।


ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নতুন করে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবানন থেকে প্রত্যাহার করতে হবে, ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে এবং দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে।’


অন্যদিকে, জনপ্রিয়তা হারাতে থাকা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে এবং কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।


সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ইরান ‘আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না’ এবং ভোটে প্রভাব ফেলার জন্য তেহরান ‘মরিয়া চেষ্টা করছে।’ তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করছেন যে যুদ্ধ তাঁর মেয়াদের বাকি দুই বছর পর্যন্তও চলতে পারে।


তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন