বিনিয়োগ খরায় চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৪ শতাংশে: বিশ্ব ব্যাংক
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
বৈশ্বিক আর্থিক খাতের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাটি বলেছে, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) অর্জিত হতে পারে। মূলত বিনিয়োগ খরার কারণেই এতটা নিচে নামার আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্ব ব্যাংকের এ পূর্বাভাস কোভিড মহামারীর ধাক্কায় নেমে যাওয়া প্রবৃদ্ধির চেয়েও কম। মহামারীর সময় ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এসেছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা এ যাবৎকালের সবচেয়ে কম।
তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ অক্টোবর সংস্করণ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
পূর্বাভাস কমানোর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগে মন্থরগতি অব্যাহত রয়েছে; রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেছে। মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণেই বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।
‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন।
এর আগে গত ১৬ জুন প্রকাশিত সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের ধাক্কায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
তার আগে গত ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছে বিএনপি সরকার, যা এডিবির সবশেষ পূর্বাভাসের চেয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
গত ১০ জুন বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। তাতে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে আগের বছরের (২০২৪-২৫ অর্থবছর) চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে বেড়েছে।
চলতি আর্থিক বছরের তিন মাস (জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর) পার হয়েছে, কিন্তু এখনও গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করেনি এডিবি।
গত অর্থবছরের বাজেটে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছিল ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে অন্তর্বর্তী সরকার। শেষ পর্যন্ত অর্জিত হয় ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অর্জনের খাত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে বরাবরই দেখিয়ে এসেছে।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা সর্বপ্রথম ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়; পরে সংশোধিত হিসাবে তা অবশ্য ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে নেমে আসে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ওটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
তার পরের বছর কোভিড মহামারির ধাক্কায় তা ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে আসে। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে উঠেছিল। পরের বছর ৭ শতাংশ ছাড়ালেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে আবার ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে আসে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ