শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

লাউ বিক্রি হচ্ছে ১ টাকায় ৪টি, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা

সোনার দেশ ডেস্ক ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন কৃষি
সোনার দেশ ডেস্ক ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন
লাউ বিক্রি হচ্ছে ১ টাকায় ৪টি, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা
ফাইল ছবি।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে লাউয়ের দাম তলানিতে নেমেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক টাকায়। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক চাষি হতাশ হয়ে বাগান কেটে ফেলছেন। কেউ কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।


কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে লাউয়ের দাম অত্যন্ত কম হলেও খুচরা বাজারে একই পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে উৎপাদনের পরও লাভের মুখ দেখছেন না তারা। চাষাবাদে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।


উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। এ আবাদে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ পুরো মৌসুমে লাউ বিক্রি করে আয় হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা। এতে শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।


দুলাল ইসলাম বলেন, এত কষ্ট করে লাউ চাষ করেও যখন দাম পাওয়া যাচ্ছে না, তখন লোকসান মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে হতাশ হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন বলেও জানান তিনি।


এই কৃষকের দাবি, উৎপাদক পর্যায়ে লাউয়ের দাম কম থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কৃষক ও ভোক্তার দামের এই ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


একই ইউনিয়নের ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার চাষি আনসারুল ইসলাম জানান, টানা ১০ দিন ধরে তিনি লাউয়ের বাগানে পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।


তিনি বলেন, একজন শ্রমিককে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। অথচ এবার লাউ বিক্রি করে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে বলে তার দাবি। এভাবে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম থাকলে কৃষকেরা ভবিষ্যতে লাউ চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।


স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার এলাকায় লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


ভালো ফলন সত্ত্বেও উৎপাদিত লাউয়ের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ আটোয়ারীর চাষিরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় তাদের লোকসান কমাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন