ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের মৃত গাছটি আপনাতেই ভেঙে পড়লো ‘বিভাগীয় প্রকৌশলী বললেন, এতো সৌন্দর্যের দরকার নেই, গাছ লাগানোরও প্রয়োজন নেই’

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্লাটফর্মে প্রবেশ মুখের ‘কৃষ্ণচুড়া চত্বরের’ কৃষ্ণচুড়া গাছটির মৃত্যু হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মারা যাওয়ার পর থেকে গাছটির শীতল ছায়া বঞ্চিত ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের দাবির মুখে প্রায় এক বছর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশালাকৃতির এই কৃষ্ণচুড়া গাছটির ডালপালা কেটে দিলেও গত দেড় বছরে কাটা হয়নি মরা গাছের মূল অংশ। গাছের গোড়া ও মোটা ডালপালায় পচন সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আপনা আপনিই উপড়ে ভেঙে পড়ে গাছটি।
তবে ভেঙে পড়া মৃত গাছটি কেটে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়নি এখনো। এই মরা গাছ ভেঙে পড়ায় ট্রেন ধরতে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে আসা ট্রেনযাত্রী ও ক্লান্ত মানুষজনের এই কৃষ্ণচুড়া চত্বরের গাছের ছায়ায় বিশ্রামের সুযোগও বন্ধ হয়েছে। ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয়রা এই মৃত গাছ সরিয়ে সেখানে নতুন করে একটি গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন।
রেলসূত্রে জানা গেছে, গাছটি কেটে সরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় সরেজমিন তদন্ত করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিলেও গাছটি কাটা ও নতুন করে গাছ লাগানোর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের সৌন্দর্য ফিরিয়ে এনে কৃষ্ণচুড়া চত্বরে নতুন করে কৃষ্ণচুড়া গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠন।
ট্রেনযাত্রী জহুরুল ইসলাম বলেন, ট্রেন ধরতে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এসে ট্রেনের দেরি থাকলে অথবা আগে এসে এই কৃষ্ণচুড়া গাছের ছায়ায় বসে অনেকে ক্লান্তি দূর করতে বসে বিশ্রাম নিতো। পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ পৃথিবী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, গাছটির বিস্তৃত ডালপালা, সবুজ পাতা ও লাল রঙে রঙিন ফুলের কারনে এখানে চমৎকার সৌন্দর্যময় হয়ে উঠেছিল কৃষ্ণচুড়া চত্বরটি। মৃত গাছটি অপসারণ করে নতুন করে গাছ লাগিয়ে চত্বরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছি আমরাও।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে হেডকোয়ার্টারের উপসহকারী প্রকৌশলী কার্য (আই ডব্লিউ) আতিকুর রহমান বলেন মৃত গাছটি কাটার জন্য সরেজমিন তদন্ত করে গাছটি কাটার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। মৃত গাছ সরিয়ে নতুন করে বৃক্ষরোপন করে স্টেশনের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার মুঠোফোনে বলেন, ‘এখানে এতো সৌন্দর্যের দরকার নেই, কৃষ্ণচুড়া চত্বরে আর গাছ লাগানোরও প্রয়োজন নেই।’
এসব বিষয়ে কথা বতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) লিয়াকত শরীফ খানকে মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।