শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

সরকারের বিরোধিতা, মুহূর্তের মধ্যে রেডিও-টিভিতে নিষিদ্ধ কিশোর কুমারের গান!

সোনার দেশ ডেস্ক ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ন বিনোদন
সোনার দেশ ডেস্ক ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ন
সরকারের বিরোধিতা, মুহূর্তের মধ্যে রেডিও-টিভিতে নিষিদ্ধ কিশোর কুমারের গান!

কণ্ঠে ছিল জাদু। গান গাইলে মুগ্ধ হয়ে যেতেন শ্রোতারা। কিন্তু সেই কণ্ঠই একসময় সরকারি রোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেশের ইতিহাসের অন্যতম অস্থির রাজনৈতিক সময়, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময়ে, জনপ্রিয় গায়ক কিশোর কুমারের গান নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল আকাশবাণী এবং দূরদর্শনে। পিছনে ছিল সরকারের একটি অনুরোধ এবং সেই অনুরোধ রাখতে কিশোর কুমারের অস্বীকৃতি। সম্প্রতি এই পুরনো ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা করেছেন তাঁর ছেলে অমিত কুমার।


ঘটনার সূত্রপাত ১৯৭৬ সালে। সেই সময় কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক চলচ্চিত্র জগতের শিল্পীদের সরকারের ২০ দফা কর্মসূচির প্রচারে যুক্ত করতে চেয়েছিল। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কর্মসূচির পক্ষে প্রচারমূলক অনুষ্ঠান তৈরি করা এবং তাতে জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ করানো।


এই প্রক্রিয়ায় কিশোর কুমারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি সরকারের সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজি হননি। সরকারি নথি অনুযায়ী, মন্ত্রকের এক আধিকারিক তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান এবং দেখা করার প্রস্তাব দেন। কিশোর কুমার সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, তিনি অসুস্থ এবং চিকিৎসক তাঁকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি রেডিও বা টেলিভিশনের জন্য গান গাওয়ার ব্যাপারেও তিনি আগ্রহী নন বলে জানান।


এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। কিশোর কুমারের এই অস্বীকৃতিতে সিদ্ধান্ত হয়, আকাশবাণী এবং দূরদর্শনে কিশোর কুমারের সমস্ত গান সম্প্রচার বন্ধ করা হবে। তাঁর অভিনীত ছবিগুলির তালিকা তৈরি করার পাশাপাশি তাঁর রেকর্ড বিক্রির উপরও বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।


১৯৭৬ সালের ৪ মে থেকে আকাশবাণীতে এবং ৫ মে থেকে দূরদর্শনে কিশোর কুমারের গান নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে দেশের অসংখ্য শ্রোতা-দর্শক আচমকাই রেডিও এবং টেলিভিশনে তাঁদের প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠ শোনা থেকে বঞ্চিত হন।


পরে এই ঘটনা নিয়ে গঠিত শাহ কমিশন অফ ইনকোয়ারি -এর নথিতেও বিষয়টি উঠে আসে। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, কিশোর কুমারের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ ছিল ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্য শুধু তাঁকে শাস্তি দেওয়া ছিল না; এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতের অন্য শিল্পী ও প্রযোজকদেরও সরকারের কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে চাপ তৈরি করা হয়েছিল।


অবশেষে কিশোর কুমার সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার বিষয়ে লিখিতভাবে সম্মতি জানান। এরপর তাঁর উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অর্থাৎ কয়েক মাসের এই অধ্যায় শুধু একজন শিল্পীর গান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ছিল না, এটি ছিল শিল্পী এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সংঘাতের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন