কেইনের পেনাল্টি মিসে স্পেনের কাছে হারল ইংল্যান্ড
ওয়েম্বলিতে পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল চলল নাটক। কখনো স্পেনের দাপট, কখনো ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন, শেষ পর্যন্ত অবশ্য নিজেদের ভুলের খেসারত দিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হারল ইংল্যান্ড। উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থমাস টুখেলের দল হেরেছে ৩-২ গোলে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। মাত্র দুই মিনিটে মার্ক গেহির ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পেয়ে যান লামিনে ইয়ামাল। এরপর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডকে সহজেই পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।
এরপর একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে স্পেন। ফেরান তোরেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। আরও দুটি সুযোগে ট্রাফোর্ডকে পরীক্ষায় ফেলেন তিনি, আরেকবার গোলের সামনে পেয়েও বল বাইরে পাঠান।
চাপ সামলে ইংল্যান্ড ধীরে-ধীরে ম্যাচে ফেরে। আক্রমণের ধরন বদলে আরও সরাসরি ফুটবল খেলতেই আসে সাফল্য। ৩৬ মিনিটে জুড বেলিংহামের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে দুর্দান্তভাবে স্পেনের বক্সে ঢুকে পড়েন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর ঠান্ডা মাথায় উনাই সিমোনকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান তিনি।
চার মিনিট পরই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ক্রস থেকে পাওয়া বল হেড করেন হ্যারি কেইন। সেটি মার্ক কুকুরেয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ৫৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে বেলিংহামকে ফাউল করেন রদ্রি। ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপের পর পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড।
কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি কেইন। পেনাল্টি নিতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। বলেও দুইবার স্পর্শ লাগে তাঁর, এরপর শট গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই মুহূর্তের পর আবারও নিজেদের ভুলের মাশুল দিতে হয় ইংল্যান্ডকে।
৬০ মিনিটে নিকো ও’রাইলির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন স্পেনের বদলি খেলোয়াড় অ্যালেক্স বায়েনা। এরপর বক্সের প্রান্ত থেকে নিচু শটে ট্রাফোর্ডকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের এই উইঙ্গার।
ততক্ষণে স্পেন নিজেদের ছন্দ ফিরে পেয়েছে। ৭৪ মিনিটে আবারও আক্রমণের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচ এগিয়ে যায় তারা। দ্রুত পাসের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে মিকেল ওইয়ারসাবাল ট্রাফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ এক চিপে বল জালে পাঠান।
এই ওইয়ারসাবালই ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেনের জয়সূচক গোল করেছিলেন। এবারও তাঁর গোলেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত হলো স্পেনের।
এই জয়ে স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারাটা বেড়ে দাঁড়াল ৩৯ ম্যাচে। ইংল্যান্ডের জন্য ম্যাচটির শিক্ষা অবশ্য বেশ পরিষ্কার। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সামান্য ভুলও কতটা বড় মূল্য দিতে পারে, ওয়েম্বলির রাতটি সেটিই দেখিয়ে দিল।
তবে সবকিছুর মাঝেও ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক দিক ছিলেন গর্ডন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচেও গোল করেছিলেন তিনি। এবার স্পেনের বিপক্ষেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে দেখালেন, বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার ক্ষমতা তাঁর আছে।
বেলিংহামও ছিলেন কার্যকর। গোল না পেলেও ইংল্যান্ডের আক্রমণে তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। আর জর্ডান পিকফোর্ডের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পাওয়া ট্রাফোর্ডও নিজের জায়গা ধরে রাখার দাবি জোরালো করেছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত টুখেলের ইংল্যান্ডকে ফিরতে হলো হতাশা নিয়ে। মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্রের মাঠে পরের ম্যাচ খেলবে তারা। একই সময়ে স্পেন মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।