বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

আয়ের বেশিরভাগটাই দান, খ্যাতির মধ্যগগনেও নানা থেকেছেন এক কামরার ফ্ল্যাটে

সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৯ অপরাহ্ন বিনোদন
সোনার দেশ ডেস্ক ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৯ অপরাহ্ন
আয়ের বেশিরভাগটাই দান, খ্যাতির মধ্যগগনেও নানা থেকেছেন এক কামরার ফ্ল্যাটে

নানা পাটেকর। বরাবর ‘ক্রান্তি’ পছন্দ করতেন তিনি। কখনও ‘পলিটিক্যাল কারেক্টনেসে’র ধার ধারেননি। বিতর্ক যে তাঁকে স্পর্শ করেননি সেটাও বলা যাবে না। একাধিকবার পরিচালক-প্রযোজকদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বরাবরের মাটির মানুষ। রূপোলি পর্দার গ্ল্যামারের ছটা তাঁকে সেভাবে কোনওকালে স্পর্শ করতে পারেনি। মানুষ নানা পাটেকর নিজের কঠিন সময়েও যেমন ছিলেন-কেরিয়ারের মধ্যগগনেও তেমন। সহজ-সরল সাদাসিধা।


পাঁচ দশকের দীর্ঘ কেরিয়ার। তাঁর যা অভিনয় দক্ষতা ছিল তাতে আজকের দিনে প্রথম সারির মহাতারকাদের থেকে তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি বা বৈভব কোনওটাই কম হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নানা পাটেকর কোনওদিন প্রতিপত্তি বা বৈভব কোনওটাই চাননি।শোনা যায়, কাজ পাওয়ার জন্য কারও কাছে দরবার করেননি। বরং একগুয়েমির জন্য কাজ হাতাছাড়া হয়েছে। তাতেও আক্ষেপ করেননি। নিজের অবস্থান থেকে সরেননি।


অভিনয় সেটের বাইরে গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল না নানার। বরং তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কখনও মহারাষ্ট্রের লাতুরের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কখনও দুস্থদের চিকিৎসার জন্য দান করেছেন। কখনও বন্যা পীড়িতদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছেন। তাঁর ‘নাম ফাউন্ডেশন’ নামে একটি চ্যারিটি সংস্থা রয়েছে তাঁর। অনাথ ও দুস্থ শিশুদের সুরক্ষিত ভবিষ্যতে পাইয়ে দিতে কাজ করে ওই সংস্থা।


শোনা যায়, নানা নিজের রোজগারের প্রায় ৯০ শতাংশ বিভিন্ন রকমভাবে চ্যারিটিতে দিয়ে দিতেন। আর নিজে অতি সাধারণ মানের জীবনযাপন করতেন। কেরিয়ারের মধ্যগগনেও তিনি থাকতেন আন্ধেরির একটি এক কামরার ফ্ল্যাটে। কয়েক দশক আগে ৭৫০ স্কয়্যার ফিটের ওই ফ্ল্যাটটি তিনি কেনেন ১.১ লক্ষ টাকায়। সেখানেই মায়ের সঙ্গে থাকতেন অভিনেতা। বহুদিন সেখানেই থেকেছেন। মায়ের মৃত্যুর পর অবশ্য মুম্বইয়ের কোলাহল থেকে দূরে থাকা শুরু করেন।


সবুজ বড় পছন্দ ছিল নানার। গাছগাছালির মধ্যে থাকতে পছন্দ করতেন। অভিনয় কেরিয়ারের মধ্যগগনে ধীরে ধীরে পুণেতে একটি ফার্মহাউস গড়ে তোলেন। ২৭ একর জমির ওই ফার্ম হাউসে সময় পেলে নিজের হাতে চাষবাস করতেন তিনি। ওই ফার্মহাউস থেকেও বহু মানুষের অন্নের সংস্থান হয়। ওই ফার্মহাউস থেকে যা রোজগার হয় সেটাও প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন তিনি।


কেরিয়ারের শেষদিকে এসে অবশ্য গোয়ার ডোনা পাউলায় একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন নানা। ওই বাড়িটি মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট এবং পুণের ফার্মহাউসের থেকে অনেক আধুনিক সুযোগসুবিধা যুক্ত ছিল। তবে সেটাও কোলাহল থেকে দূরে। জীবনের শেষদিনটা সেখানেই কাটিয়েছেন তিনি। শেষদিকে মুম্বই, পুণে এবং গোয়া তিন বাড়িতেই সামান্য সামান্য সময় কাটাতেন। তবে পুণে-তে সময় কাটাতেই পছন্দ করতেন। ইদানিং বড়পর্দায় বড় বেশি দেখা যেত না তাঁকে।


এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র বলছে, শেষদিকেও ছবিপিছু ২-৩ কোটি টাকা রোজগার ছিল নানার। সব মিলিয়ে তাঁর তিনটি বাড়ি ও ফার্মহাউস মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তিনি যে স্তরের অভিনেতা তাতে সম্পত্তির অঙ্কটা সামান্যই। নানার অতি সাধারণ জীবনযাত্রা বোঝা যায় গাড়ির সংখ্যা দেখলেও। তিনটি গাড়ি রয়েছে অভিনেতার। কোনওটাই বিলাসবহুল নয়।


৩ বারের জাতীয় পুরস্কার, চারবারের ফিল্মফেয়ার এবং পদ্মশ্রী প্রাপ্ত অভিনেতার জীবনের শেষটাও খানিকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই হল। যেমনটা আজীবন তিনি চেয়েছিলেন। ফ্ল্যাশলাইট থেকে দূরে। নানার প্রয়াণে আজ যেমন বলিউড কাঁদছে, অভিনয় জগত শোকগ্রস্ত, তেমনই শোকবিহ্বল মহারাষ্ট্র তথা দেশের বহু দুঃস্থ পরিবার।


তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন