বোনের পুরোনো বোরকায় ‘ক্রিশ’ সাজ, বড় পর্দার স্বপ্ন দেখেন আল মামুন
বড় বোনের পুরোনো বোরকা কেটে-সেলাই করে বানিয়েছেন বলিউডের সুপারহিরো ‘ক্রিশ’-এর আদলে পোশাক। সেই পোশাক পরে স্টান্ট ও শারীরিক কসরত দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কাড়ছেন সিরাজগঞ্জের তরুণ মোহাম্মদ আল মামুন। সীমিত সামর্থ্য আর নিজের সৃজনশীলতাকে পুঁজি করে এগিয়ে চলা এই তরুণের স্বপ্ন একদিন চলচ্চিত্রের বড় পর্দায় নিজের প্রতিভা তুলে ধরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁকে চেনেন ‘বাংলার ক্রিশ’ নামে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আল মামুন পেশায় পাইপ ফিটিংস মিস্ত্রি। প্রতিদিনের কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর আগ্রহ স্টান্ট, শারীরিক কসরত এবং বলিউড অভিনেতা হৃত্বিক রোশনের অভিনীত ‘ক্রিশ’ চরিত্রকে ঘিরে। প্রিয় এই চরিত্রের মতো পোশাক পরে নিজেকে উপস্থাপনের ইচ্ছা থেকেই শুরু তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য না থাকায় থেমে যাননি মামুন। বড় বোনের পুরোনো বোরকাকেই বানিয়ে নেন নিজের স্বপ্নের পোশাক। নিজের পরিকল্পনা ও পরিশ্রমে সেটি কেটে-সেলাই করে তৈরি করেন ক্রিশের আদলে পোশাক। এরপর সেই পোশাক পরে বিভিন্ন ধরনের স্টান্ট ও শারীরিক কসরত করে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। সীমিত উপকরণ দিয়েই নিজের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মামুনের এসব ভিডিও ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ায় দর্শকদের নজর কাড়ছে তাঁর ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা। সাধারণ একটি পুরোনো পোশাককে কাজে লাগিয়ে পছন্দের সুপারহিরোর আদল তৈরি করা এবং সেই সাজে শারীরিক কসরত দেখানোর চেষ্টা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাঁর এই উদ্যোগে ফুটে উঠেছে সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নপূরণের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়াই মামুনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। তাঁর স্বপ্ন, একদিন চলচ্চিত্রের বড় পর্দায় অভিনয় ও স্টান্টের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে নিজের প্রতিভা তুলে ধরবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিয়মিত অনুশীলন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ প্রয়োজন। সুযোগ পেলে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে চান তিনি।
স্থানীয়দের কাছে আল মামুনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কৌতূহল ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। পুরোনো বোরকা, নিজের চেষ্টা আর বুকভরা স্বপ্নকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন বনবাড়িয়া গ্রামের এই তরুণ। তাঁর গল্প বলে, সীমিত সামর্থ্য সৃজনশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও স্বপ্ন দেখার পথ বন্ধ করতে পারে না। এখন বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ ও সুযোগের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করা।