শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

চাঁদের বুকে দুটো ফুটবল মাঠের সমান গহ্বর খুঁজে পেল নাসা!

সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪১ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪১ অপরাহ্ন
চাঁদের বুকে দুটো ফুটবল মাঠের সমান গহ্বর খুঁজে পেল নাসা!
চাঁদে কী ভাবে গহ্বর তৈরি হয়? ছবি: সংগৃহীত।

চাঁদের বুকে বিশাল এক উজ্জ্বল দাগ। তাকে ঘিরে রয়েছে কালো গহ্বর। সম্প্রতি সেই দৃশ্যই চোখে পড়ল নাসার বিজ্ঞানীদের। আর সেই নিয়েই শুরু হয়েছে হইচই। কিন্তু কেন হইচই? বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের সদ্যোজাত গহ্বর পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ এর আগে হয়নি তাঁদের। চাঁদে ভারী কিছু পড়লে কী অভিঘাত হয়, কতটা হয়, তা-ও এ ভাবে আগে কখনও প্রত্যক্ষ করতে পারেনি গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, এই আবিষ্কারকে ‘শতাব্দীর সেরা’ও বলা যেতে পারে।


নাসার বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার চাঁদের মানচিত্র খতিয়ে দেখছিলেন। তা করতে গিয়েই বিশাল সেই গহ্বর চোখে পড়ে তাঁর। নাসার লুনার রেকনেসাঁস অরবিটার ক্যামেরা (এলআরওসি) প্রযুক্তি থেকে মেলা ছবি, তথ্য নিয়ে গবেষণা শুরু করেন রবার্ট। ওই একই অংশের আগের এবং পরের ছবি মিলিয়ে দেখতে থাকেন তিনি। তাতেই দেখেন, চাঁদের ওই অংশে সম্প্রতি একটি গহ্বর তৈরি হয়েছে। রবার্টের সেই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে।


চাঁদ নিয়ে গবেষণা করেন টন ম্যাকগেটচিন। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মে-র মধ্যে চাঁদের পূর্ব দিকে ওই গহ্বর তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীর নামানুসারেই ওই গহ্বরের নামকরণ হয়েছে— ম্যাকগেটচিন।


কী ভাবে তৈরি হয় সেই গহ্বর?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের বুকে একটি ধূমকেতু বা গ্রহাণু আছড়ে পড়েছিল। তিন তলা থেকে ছ’তলা বাড়ির সমান ছিল সেই ধূমকেতু বা গ্রহাণু। তার জেরেই চাঁদের বুকে তৈরি হয় বিশাল এক গহ্বর, যা প্রায় ৭২৮ ফুট চওড়া। পাশাপাশি দু’টি ফুটবল মাঠ ঢুকে যেতে পারে সেই গর্তে।


বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের বুকে রোজ রোজ এত বড় গহ্বর তৈরি হয় না। কোনও বস্তুর আছড়ে পড়ার ফলে এত প্রবল অভিঘাতও তৈরি হয় না। ১০০ বছরে এক বার হয়তো এই ঘটনা ঘটে চাঁদে। চাঁদে কোনও বায়ুমণ্ডল না থাকায় ধূমকেতু বা উল্কা গতি না হারিয়ে সরাসরি আঘাত হানে। তার ফলে সেখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তীব্র সংঘর্ষের ফলে চাঁদের মাটির নীচের অংশ উপরের দিকে চলে আসে। বিজ্ঞানীরা তাকে বলেন ‘লুনার গার্ডনিং’।


গত ১৭ বছর ধরে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে নাসার লুনার রেকনেসাঁস অরবিটার। তারা চাঁদের তাপমাত্রা, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূপৃষ্ঠ পরখ করে চলেছে। সেখানে বিকিরণ হয় কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে। তা করতে গিয়েই নাসার বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গত ১৭ বছরে চাঁদের বুকে গ্রহাণু, ধূমকেতু আছড়ে পড়ার ফলে পৃষ্ঠে প্রায় এক লক্ষ বার বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা প্রত্যক্ষ করলেন সদ্যগঠিত এক গহ্বর। সেই গহ্বর কী ভাবে তৈরি হল, তার ফলে চাঁদে কী প্রভাব পড়ল, তা-ও অনেকটাই বুঝতে পেরেছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণাকেন্দ্র বা ল্যান্ডার পাঠানোর ক্ষেত্রে কী কী অসুবিধা হতে পারে, তা-ও বোঝা গিয়েছে।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন