অভিযাত্রীদের মূত্রত্যাগে হু হু গলছে এভারেস্টের হিমবাহ! বিস্মিত পরিবেশবিদরা
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতচুড়োয় কিনা অভিযাত্রীদের প্রস্রাব ঘিরে শোরগোল! দেখা যাচ্ছে, বেস ক্যাম্পে পর্বতারোহী ও গাইডদের প্রস্রাবে বরফ গলিয়ে দিচ্ছে স্বাভাবিক হারের থেকেও দ্বিগুণ বেগে। সেই সঙ্গে পোড়ানো জ্বালানির তাপও একটা ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। প্রতি বছরই পর্বতারোহণের মরশুমে একাধারে অভিযাত্রী, ট্রেকার, গাইডদের ভিড় জমতে থাকে। আর তখনই গলতে থাকে বরফ। নেপথ্যে অন্যতম ফ্যাক্টর প্রস্রাব!
তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, প্রস্রাবই প্রধান কারণ অবশ্য নয়। জ্বালানির ব্যবহার, জলবায়ুর পরিবর্তনের মতো কারণ রয়ে গিয়েছে নেপথ্যে। তবে মূত্রত্যাগকে এড়ানো যাবে না। দৈনিক ৬ হাজার লিটার মূত্র জমা হয়। এর মধ্যে একটা বড় অংশই সরাসরি জমা হয় হিমবাহে। গবেষণায় এও বলা হয়েছে, মানুষের নির্গত প্রস্রাবের তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র। নেপালের এভারেস্টের অংশে অবস্থিত খুম্বু হিমবাহকেই কেন্দ্র করে এই গবেষণা করা হয়েছে। হিমবাহের উপরে অবস্থিত বেস ক্যাম্পটিকে ঘিরে গবেষণায় যে তথ্য হাতে এসেছে, তা চোখ কপালে তোলার মতোই। মাথায় হাত পরিবেশবিদদের। নেপাল প্রশাসনের এক কর্মকর্তা-সহ এক আন্তর্জাতিক দল এই গবেষণা চালিয়েছে। ২০২৩ সালের বসন্তে ওই তথ্য তাদের হাতে আসে।
বেস ক্যাম্পে মানুষের কার্যকলাপ কীভাবে কুম্বু হিমবাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝার জন্যই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে নির্গত শক্তি ও তাপ নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে এলপিজি, কেরোসিন এবং পেট্রোলের ব্যবহার যেমন ছিল, তেমনই গবেষকরা প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপ নিয়েও বিস্তারিত গবেষণা করেছেন।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বসন্তকালে এসব কার্যকলাপের ফলে নির্গত মোট তাপশক্তির পরিমাণ ছিল বিপুল পরিমাণ। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ তাপ প্রায় আড়াই হাজার টন হিমবাহের বরফ গলিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এভারেস্ট-সংলগ্ন হিমবাহগুলির গলনের একমাত্র কারণ মানুষের কার্যকলাপ। তিনটি প্রধান কারণের মধ্যে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম একটি কারণ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
বর্তমানে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পটি ‘সুপ্রাগ্লেসিয়াল’ অবস্থানে রয়েছে। আগামিদিনে এটিকে অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। গবেষকরা বেস ক্যাম্পের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করেছেন। দুটি স্থানই স্থিতিশীল ভূখণ্ডের ওপর অবস্থিত। আসলে প্রতি বছরই বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিবহুল অভিযান-কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এভারেস্টে আসেন বহু অভিযাত্রী। এই সংখ্যাবৃদ্ধিই নতুন এক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন