শহিদ মিনার চায় শমসেরনগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আপডেট: মার্চ ১, ২০২৪, ৫:৪০ অপরাহ্ণ


আমিনুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের সমশেরনগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে আজও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি একটি শহিদ মিনার। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাকিত মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস ও মহান বিজয় দিবসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বীর শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে বিদ্যালয় চত্বরে অস্থায়ীভাবে কাঠের তৈরি শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়ে থাকে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সেই অস্থায়ী শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে থাকেন।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সোনালী আক্তার বলে, বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার থাকলে খুব ভালো হতো। সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন শহিদদের প্রতি। কিন্তু আমরা শহিদ মিনার না থাকায় কাঠের তৈরি অস্থায়ী শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে থাকি।

বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান অত্যন্ত ভালো। শিক্ষার্থী সংখ্যাও আশানুরুপ। আশপাশের কোথাও শহিদ মিনার না থাকায় বিদ্যালয়ে দিবসে বিদসে কাঠের তৈরি অস্থায়ী শহিদ মিনার তৈরির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে থাকেন।
বিদ্যালয় চত্বরে একটি স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করা গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের জন্য উপকার হতো।

সরেজিমেন গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে কক্ষে চলছে শিক্ষার্থীদের ক্লাস। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায মুখরিত বিদ্যালয় চত্বর। বিদ্যালয় চত্বরটি অনেক বড় হওয়ায় সেখানে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করা গেলে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধিসহ পাবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে নতুন প্রজন্মের কমলমতি বিদ্যালয়ের শিশু-কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীরা। জনতে পারবে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদদের সম্পর্কে। দেশপ্রেম নিয়ে গড়ে উঠবে তারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ মন্ডল বলেন, বিদ্যালয়ের তেমন কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বিদ্যালয় চত্বরে শহিদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা করেও অর্থের অভাবে সেটি নির্মাণ করা যাচ্ছে না। ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।

কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সেখান থেকেও শহিদ মিনার নির্মাণের কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে আবেদন পাওয়া গেছে বিদ্যালয় চত্বরে শহিদ মিনার নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ