শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধাপরাধযোগ্য অপরাধ করেছে

সোনার দেশ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধাপরাধযোগ্য অপরাধ করেছে

জাতিসংঘের এর বেশি কিছু করার নেই

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন ইরানে একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার মতো যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালানো ওই দুই হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ছিল। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দশে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। 


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২০ জন শিশু ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একই দিনে দক্ষিণাঞ্চলীয় লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। সেখানে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্ত কমিশনের ভাষ্যমতে, মিনাবের স্কুলটি একটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল।


সেখানে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কোনো প্রমাণও তদন্তকারীরা পাননি। কিন্তু হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল, যাতে ওই স্থানে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ওই তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। মিনাবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, লামের্দে চালানো হামলায় একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স, আবাসিক এলাকা ও আশপাশের একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্ত মিশন জানিয়েছে, ওই হামলাতেও বেসামরিক হতাহত হয়েছে এবং হামলাটি নির্বিচার ছিল বলে তাদের কাছে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের এই তদন্তের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পেন্টাগনও প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এর আগে বলে আসছেন, দেশটির সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই পরিচালিত হয়।


জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত মিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বিশ্ববাসী এই তথ্য জানতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধযোগ্য অপরাধ করেছে। এ ছাড়া ওই প্রতিবেদনের আর কোনো কার্যকারিতা নেই। অন্তত ক্ষমতাধর দেশগুলোর ক্ষেত্রে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিবে সেটাও সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর ইচ্ছে-অনিচ্ছার ওপরই নির্ভর করে যুদ্ধাপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া নির্ভর করে। গাজার ওপর ইসরায়েলি হামলা, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলাগুলোতে জাতিসংঘ তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে নি।


যুদ্ধটা হচ্ছেই- যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে। হ্যাঁ ঠিক যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিবেদন সরাসরি বাধ্যতামূলক বা আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য না হওয়ার প্রধান কারণ হলো জাতিসংঘের নিজস্ব নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীনতা। এসব কিছুই একটা জটিল রাজনৈতিক মারপ্যাচের মধ্যে মীমাংসা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের করার কিছুই নেই। কথায় আছে-‘যার শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা নেই তার কাউকেও ক্ষমা করার যৌক্তিকতাও নাই।‘ জাতিসংঘের ভূমিকা এইটুকুই। বিশ্ব সংস্থাটিকে এ ভাবেই অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। ফলে শান্তির বার্তা যতই উচ্চারিত হোক না কেন, প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর দেশগুলোর কোনোটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা মোটেও সহজ কিছু নয়। তবে আমরা আশ্বস্ত হতে পারি যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধযোগ্য অপরাধ করেছে। এর বেশি কিছু নয়।