শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

শিশু ঘরে ও বাইরে অনিরাপদ

সোনার দেশ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
শিশু ঘরে ও বাইরে অনিরাপদ

সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়তে হবে

শিশু ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। এ এমন এক সময়- দেশের মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অস্বস্তি আর অজানা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন অভিভাবকগণ। দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। কখনো মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারো মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। এ বছর শিশুদের ধর্ষণের পর হত্যা এবং শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। শিশুদের নিখোঁজ হওয়া, নির্যাতন ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিদ্যমান ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাব মতে, আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) শিশু নিখোঁজের পর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্যান্য ঘটনায় মোট নিহত শিশুর সংখ্যা ১৫৫। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে নিহত ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে নিহত ৪৯, ধর্ষণের পর হত্যা (দুই ছেলেশিশুসহ) ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা ৪, গুলিতে নিহত ৩, গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু ২, উত্ত্যক্তকারীর হাতে হত্যা ২ এবং অপহরণের পর হত্যা করা হয় একজনকে। এর বাইরে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনা আছে।


শিশুহত্যার পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনাও আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের সংবাদ প্রকাশ করে।


এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দফতর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হলেও ৮৭ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৭৯।  সেই হিসাবে নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।


৯৯৯ এর কল থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ এবং জিডিমূলে পাওয়া তথ্য তাৎক্ষণিক আমলে নিয়ে অনুসন্ধান চালালে অনেক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে প্রশ্ন আছে কিন্তু পুলিশের ভাষ্য তারা দ্রুতই ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে শিশু নিখোঁজ হলে অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। এই ধারণা সমাজকে সক্ষম ও সচেতন করে তোলে। সকল পক্ষের সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং সহউদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। যা শিশুদের সুরক্ষায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।