জনবল ও এক্স-রে সেবা সংকটে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বাস্থ্যসেবায় এমন সংকট কেন?
সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের শেষ ভরসা। অথচ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একের পর এক সংকট সেই ভরসাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০টি পদে জনবল সংকট, অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকা এবং রোগীদের খাবার প্রস্তুতের জন্য কর্মী না থাকার মতো সমস্যাও রয়েছে।
একটি সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি হতে পারে না। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা টেন্ডারের জটিলতা থাকতেই পারে, কিন্তু এর কারণে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না। অন্তত বিকল্প ব্যবস্থায় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
জনবল সংকটও নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে শুধু চাহিদাপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মহাসড়কের পাশে হওয়ায় স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে চিকিৎসাসেবার ঘাটতি মানে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোগান্তি। সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হলে বাড়ে সময় ও চিকিৎসা ব্যয়।
আমরা মনে করি, পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংকটকে আর দীর্ঘায়িত না করে স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্স-রে সেবা চালু, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত, অ্যাম্বুলেন্স সচল এবং রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নে নজর দিতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে শুধু অবকাঠামো নয়, সেবার প্রতিটি স্তরও কার্যকর রাখতে হবে।