চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি
দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার এখনই সময়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বারান্দায় ঠাসাঠাসি করে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। এই পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের অবাধ যাতায়াত এবং অনেক রোগীর মশারি ব্যবহার না করায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যমতে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ হাজার ৪১৪ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে বহির্বিভাগে ১ হাজার ৮০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ৮৪ জনকে রাসশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডেঙ্গুর বাড়-বাড়ন্তের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে- এডিস মশার প্রজননস্থল সম্প্রসারিত হচ্ছে। আইইডিসিআরের কীটতাত্ত্বিক জরিপের তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১৫০টি বাড়ি পরীক্ষা করে ৫৪টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় ৩৬ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার প্রজননস্থল রয়েছে। পুরো শহর জরিপ করে দেখলে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগের কারণ হতে পারে। জরিপ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসা নয়, বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি এবং অন্যান্য প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ডেঙ্গু ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের অনেকেই ওয়ার্ডের পাশাপাশি বারান্দায় অবস্থান করছেন। রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের ভিড়ও রয়েছে। ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে মশারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বরোপ করা হলেও অনেকের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হলে হাসপাতালের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জরুরি সতর্কিকরণের আওতায় নেয়ার এখনই সময়। হাসপাতালে রোগির স্বজনদের অবস্থান সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। সরকার ইতোমধ্যেই তিনমাসব্যাপি ডেঙ্গু বিরোধী ক্যাম্পেইন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষ চাঁইনব্ববগঞ্জ শহরকে দুর্যোগ বিবেচনা করেই মাঠের ব্যবস্থাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিবেন সেটাই প্রত্যাশিত। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্তি উদ্যোগ নেয়ার এখনই সময়। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে তখন লাগাম টেনে ধরা কঠিন হয়ে পড়বে।