রামেক হাসপাতালে স্যালাইন সংকট
দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট যেন নিয়মে পরিণত হচ্ছে। কিছুদিন আগে ছিল সিরিঞ্জের সংকট, এবার শেষ হয়ে গেছে কলয়েড স্যালাইন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার এই সময়ে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ। সোমবার (৫ অক্টোবর) পর্যন্ত ১৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন, একই দিনে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৩ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের ১৫ জনই ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। এমন বাস্তবতায় জীবনরক্ষাকারী স্যালাইনের মজুত শেষ হয়ে যাওয়া নিছক সরবরাহ ঘাটতি নয়; এটি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতার ইঙ্গিত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং টেন্ডারের মাধ্যমে স্যালাইন আসবে। আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই সরবরাহ পাওয়া যাবে। কিন্তু সংকটাপন্ন রোগীর জীবন কি টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময়সূচি মেনে চলে? রোগীর প্রয়োজন আজ, অথচ সরবরাহ আসবে পরে—এই ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি যখন এত বেশি, তখন প্রয়োজনীয় স্যালাইন পর্যাপ্ত পরিমাণে আগে থেকেই মজুত থাকার কথা।
হাসপাতালে না পেয়ে রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে। বাজারেও সরবরাহ কম, আবার বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালের ঘাটতির চাপ গিয়ে পড়ছে অসহায় রোগীর পরিবারের ওপর। একজন রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসে যদি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী সংগ্রহের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরতে বাধ্য হন, তাহলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
রামেক শুধু রাজশাহীর নয়, বৃহত্তর উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই এখানে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটকে কোনোভাবেই সাময়িক সমস্যা বলে পাশ কাটানো যাবে না। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে—এটি অজানা ছিল না। রোগীর চাপ বাড়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত রাখা হলো না, কেন সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলো না—এর জবাবদিহি প্রয়োজন।
এখনই সংকট কাটাতে হবে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর জন্য আলাদা বাফার স্টক, নিয়মিত মজুত পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রোগীর জীবন কোনো টেন্ডার, ফাইল বা সরবরাহ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কাছে জিম্মি হতে পারে না। রামেকের স্যালাইন সংকট তাই শুধু একটি পণ্যের ঘাটতি নয়—এটি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি ও জবাবদিহির বড় পরীক্ষা।